ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমণিষা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত লামকান গ্রামের সালমা খাতুন (২৭) তার কোলের শিশুপুত্র শাকিল হাসানকে নিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার সকালে প্রতিবেশিরা পুকুরে একটি শিশুর লাশ ভাসতে দেখে। পরে এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সামাদ লাশটি উদ্ধার করে তার নাতি শাকিলের বলে শনাক্ত করেন। কচুরিপানা সরিয়ে খোঁজাখুজির পর সালমার লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি আবু জাফর ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সালমার মা জাহানারা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে সালমা তার মেয়ে মোহনা (৯) ও ছয় মাসের পুত্র শাকিল নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। সে কখন ঘর থেকে বের হয়ে বাচ্চাকে নিয়ে পুুকুরে ঝাঁপ দিয়েছে তারা জানতেও পারেননি। ভোরে ঘুম থেকে উঠে মোহনা তার মা ও ভাই শাকিলকে না পেয়ে ডাকাডাকি শুরু করে। কিছুক্ষণ পর তাদের লাশের সন্ধ্যান মেলে।
পুলিশ ও গ্রামবাসী জানায়, সালমা কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। বাচ্চাটি জন্মের পর তিনি ৫/৬ মাস ধরে পিতার বাড়িতেই অবস্থান করেন। এগারো বছর আগে উপজেলার ভেড়ামারা গ্রামের আবু বক্কারের পুত্র খালাতো ভাই মহররম হোসেনের সাথে সালমার বিয়ে হয়। তাদের প্রথম কন্যা মোহনা জন্মের পর থেকে নানার বাড়ি থেকে লামকান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখা-পড়া করে। পুত্র শাকিল জন্মের পর ৫/৬ মাস সালমা পিতার বাড়িতেই ছিল। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক ভালো ছিল বলে সবাই জানান। তবে স্বামী মহররম সালামার সঙ্গে থাকতেন না। মাঝে মধ্যে আসতেন। সালমার একমাত্র ভাই জাহাঙ্গির হোসেন (২৫) ঘটনার দিন ঢাকায় ছিলেন। শুক্রবার সকাল ১১টায় রিপের্ট লেখা পর্যন্ত তাদের মৃত্যুর কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভাঙ্গুড়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।।
