ঘাটাইলে উপজেলার সিংগুরিয়া গ্রামে সামিয়া নামের নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রী সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করেছে। গত শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। সামিয়া সিংগুরিয়া স্যার আব্দুল হালিম গজনবী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের সিংগুরিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী হযরত আলীর মেয়ে সে। এলাকাবাসী জানায়, শনিবার সন্ধ্যার পর মা ও বড় বোন বাড়ির বাইরে গেলে সামিয়া ঘরের বারান্দায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে মা ও বড় বোন বাড়ি ফিরে ঝুলন্ত অবস্থায় সামিয়াকে দেখতে পেয়ে বাঁচানোর জন্য তাকে মাটিতে নামায়। কিন্তু সামিয়ার তার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেছে। এ ঘটনার খবর পেয়ে ঘাটাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। একই সঙ্গে পুলিশ দুইটি চিরকূট উদ্ধার করে। চিরকূটে যা লেখা ছিল: ‘আম্মা, তুমি আর আব্বা আমাকে বেশি ভালোবাসতা, আমাকে বেশি আদর করতা। কিন্তু আমি তোমাদের সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখিনি। আমাকে তোমরা আর আগের মত বিশ্বাস করো না। হয়তো আমার প্রতি তোমাদের সেই ভালোবাসা কমে গেছে। কিন্তু আমি যা করেছিলাম তা আবেগের বশে ভুল করেছিলাম। পরে সবকিছু বুঝতে পারছিলাম। কিন্তু তারপর সেই অপরাধ বোধ আমাকে কুরে কুরে শেষ করে দিচ্ছে। আমি তোমাদের মনে অনেক কষ্ট দিয়েছি। আমি বেঁচে থাকলে হয়তো জীবনে আরো কষ্ট পাবা আমার কারণে। তাই আমি ভেবে নিচ্ছি আমি আর আমার জীবনটাই রাখবো না। তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি যে কাজটা করেছি সেটা হয়তো অনেক বড় অপরাধ, অনেক বড় পাপ। কিন্তু আমি আর ঠিক থাকতে পারলাম না। তাই আমি আমার জীবনটাকেই শেষ করে দিলাম। পারলে মা আর আব্বা আমাকে ক্ষমা করে দিও, আর তোমরা সবাই ভালো থেকো’। ইতি, চঞ্চল
গতকাল রবিবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘাটাইল থানার এসআই আবু হানিফ বলেন, এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
