আলমারিতে লাশ: হত্যার কারণ পরকিয়া!

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৪, ১৮:৩৭
 
রাজধানীর লালবাগ এলাকার একটি বাসার আলমারী থেকে তার প্যাঁচানো অবস্থায় আলউদ্দিন শিকদার (৩০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার রাতে ছোটবাট মসজিদ এলাকার ডুরি আঙ্গুরি লেনের ছয় তলা ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে তার লাশটি উদ্ধার করা হয়। বাসাটি নিহতের খালার বাসা।  পুলিশ জড়িত থাকার সন্দেহে খালাত ভাই জুবায়ের হোসেন সুমনকে গ্রেফতার করেছে।
ময়নাতদন্তের  জন্য লাশ পাঠানো হয়েছে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পুলিশ ধারণা করছে, পরকীয় প্রেমের জের এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
নিহত আলাউদ্দিন নিউ মার্কেটে ‘শাপলা ট্রেডার্স’ নামে একটি মাছের আড়তে কাজ করতেন। ঐ আড়তের মালিক সম্পর্কে তার ভগ্নিপতি। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে আলাউদ্দিন ছিলেন দ্বিতীয়।
লালবাগ থানার  অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুল মুত্তাকিন জানান, হত্যার ধরন দেখে মনে হচ্ছে ঘটনার একদিন আগে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের গলায় প্যাঁচানো ছিল তার। গ্রেফতারকৃত সুমন হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও পারিপার্শিক অবস্থা দৃষ্টে মোটামুটি নিশ্চিত সেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ।
তিনি আরো জানান, শনিবার সকালে সুমনের মা কামরাঙ্গীর চরে এক আত্মীয়র বাসায় যান। রাতে ফিরলে সুমন তাকে ঘরের স্টিলের আলমারিতে হাত দিতে নিষেধ করে। এরপর সুমন তার শ্বশুরবাড়ি গিয়ে স্ত্রীকে মারধর করে। এতে ঐ বাসার লোকেরা পুলিশ খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে সুমনকে আটক করে থানায় আনে। পরে সুমনের মায়ের সন্দেহ হলে তিনি আলাউদ্দিনের বাসায় খবর দেন। তারাও আলাউদ্দিনের সন্ধান না পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ আলমারির তালা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে।
হত্যার কারণ সম্পর্কে ওসি জানান, বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায় সুমনের ধারনা ছিল তার স্ত্রীর সঙ্গে আলাউদ্দিনের পরকীয় সর্ম্পক ছিল। এ সন্দেহ থেকেই সুমন তাকে হত্যা করেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তবে রিমান্ডে এনে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।
নিহত আলাউদ্দিনের বাবা হোসেন শিকদার জানান,  সুমন ফোন করে আলাউদ্দিনকে তাদের বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। তবে কী কারণে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
 পুলিশ জানায়,  ছয় তলার বাড়িটি সুমনদের নিজেদের। সুমন বিবাহিত হলেও গত ছয় মাস ধরে স্ত্রী রয়েছে তার বাবার বাড়ীতে। তার স্ত্রীর বাবার বাড়ি পাশের মহল্লাহ। সুমন থাকে ষষ্ঠ তলার একটি ঘরে । আর পাশের ঘরে থাকে তার মা নূরজাহান। সুমন মাদকাসক্ত। স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।