আবারো বাড়ছে দুই ডিসিসির সীমানা

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৪, ০১:৩৬

আবারো বাড়ছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সীমানা। নতুন সীমানা বাড়ানোর বিষয়টি সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়ে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এর আগে দক্ষিণ সিটিতে যুক্ত সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের সীমানা জটিলতার মীমাংসা না হতেই আবারো নতুন এলাকা যোগ হচ্ছে। ফলে দুই সিটির নির্বাচনের আশা আপাতত ছেড়ে দিয়েছে ইসি।

উত্তর সিটি করপোরেশনে নতুন এলাকা হিসেবে যোগ হচ্ছে-উত্তরার ১১ থেকে ১৪ নম্বর সেক্টর ও হরিরামপুর ইউনিয়নের বাইলজুরা মৌজা। আর দক্ষিণে নতুন এলাকা হিসেবে যুক্ত হচ্ছে সবুজবাগ থানার দক্ষিণ গাঁও মৌজা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশনে নতুন এলাকা যোগ হচ্ছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ চিঠিতে বিষয়টি জানিয়েছে। তবে তিনি বলেন, সীমানা জটিলতা সমাধান হলে নির্বাচন করতে সমস্যা হবে না। সীমানা নির্ধারণ শেষ হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।       
ইসির কর্মকর্তারা ‘ইত্তেফাক’কে বলেছেন, এ অবস্থায় ডিসিসির চলমান সীমানা জটিলতার অবসান হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সহসাই ডিসিসি নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে না। কেননা নতুন এলাকাগুলো সিটিতে যুক্ত করতে হলে নতুনভাবে আবারো ওয়ার্ডের সীমানা বিন্যাস করতে হবে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকার ডিসিসি নির্বাচন বন্ধের জন্য নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে, যাতে একটি সমস্যার সমাধান হলে আর একটি সমস্যা নির্বাচনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি নতুন এলাকা সংযুক্তি নিয়ে একাধিক মামলাও হতে পারে।
এর আগে সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের ১৩টি ভোটার এলাকাকে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করায় ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে এই ১৩টি এলাকাকে ঢাকা দক্ষিণে অন্তর্ভুক্ত করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার। কিন্তু এখনো সেই সীমানা জটিলতা নিরসন হয়নি।
২০০২ সালের এপ্রিলে ভোটের পর ২০০৭ সালের মে মাসে অবিভক্ত ডিসিসির নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সময় দুইবার নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়া হলেও আইনি জটিলতায় সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বরে ৫৬টি ওয়ার্ড নিয়ে ‘দক্ষিণ’ ও ৩৬টি ওয়ার্ড নিয়ে ‘উত্তর’ নামে দুই ভাগ হয় ডিসিসি। দুই ভাগ করার পর এ পর্যন্ত পঞ্চম দফা অনির্বাচিত প্রশাসক দিয়ে চলছে ডিসিসি, যদিও স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনের তাগিদ দিয়ে আসছে বিভিন্ন মহল। 

ইসি জানিয়েছে, গত বছরের ১৩ মে ডিসিসি’র দুই ভাগে নির্বাচন নিয়ে করা রিট আবেদন খারিজ করে ভোট আয়োজনের ওপর হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ তুলে নেয়। কিন্তু পরবর্তীতে তেজগাঁও সার্কেলভুক্ত সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের ১৩টি পাড়া-মহল্লা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করায় সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন পড়ে। ২০১২ সালে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের ইসি তফসিল ঘোষণা করলেও আইনি জটিলতায় তা স্থগিত হয়ে যায়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০১২ সালের ২৪ মে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ২০১৩ সালের মে মাসে নির্বাচনের ওপর আদালতের স্থগিতাদেশ উঠে গেলে নতুন করে তফসিল ঘোষণার উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। তবে ওই সময় দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে একটি নতুন ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় সীমানা জটিলতায় নির্বাচন আবারো ঝুলে যায়।