প্রধানমন্ত্রী বলিয়াছেন যে, দেশকে তিনি এমনভাবে গড়িয়া তুলিবেন যেন বিশ্ব বিমুগ্ধ বিস্ময়ে সেইদিকে তাকাইয়া থাকে। গত রবিবার চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের বোরিং এবং নগরীর লালখান বাজার হইতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি তাত্পর্যপূর্ণ এই মন্তব্যটি করেন। ইহা যে কথার কথা মাত্র নহে— তাহার বহু প্রমাণ এখন দেশের সর্বত্রই দৃশ্যমান। চট্টগ্রামে তিনি যাহা বলিয়াছেন তাহাকে নিঃসন্দেহে প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বা ভবিষ্যতের রূপকল্প হিসাবে অভিহিত করা চলে। বাস্তবতা হইল, সেই ভিশন বা রূপকল্প ইতোমধ্যেই আমাদের চতুষ্পার্শ্বে চর্মচক্ষে দৃশ্যমান হইয়া উঠিয়াছে ব্যাপক আকারে। বলা বাহুল্য, কেবল বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ পদ্মা সেতুই ইহার একমাত্র উদাহরণ নহে।
দেশজুড়িয়া যে কী বিপুল কর্মযজ্ঞ চলিতেছে— তাহা স্বচক্ষে না দেখিলে অবিশ্বাস্য মনে হইতে পারে। রাজধানী ঢাকা হইতে বহির্মুখী যেকোনো একটি মহাসড়কের উভয়পার্শ্বে চোখ রাখিলেই তাহার আভাস পাওয়া যায়। ঢাকাও কি আর আগের ঢাকা আছে? চতুর্মুখী ফ্লাইওভারের জটাজাল ভেদ করিয়া একদশক আগের ঢাকাকে খুঁজিয়া পাইতে হইলে গলদঘর্ম হইতে হইবে। কেবল বৃহদাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের যে-কাজ চলিতেছে, সেই তালিকাও অনেক দীর্ঘ। গভীর সমুদ্রবন্দর, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল, মিরেরসরাই হইতে কক্সবাজার অবধি মেরিন ড্রাইভওয়ে ও রেলপথ সম্প্রসারণ, এক্সপ্রেসওয়ে— কী না হইতেছে। ইতোমধ্যে নিজস্ব স্যাটেলাইটেরও মালিক বনিয়া গিয়াছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ইহাও বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, বিপুল এই কর্মযজ্ঞের পিছনে যে-অর্থ ব্যয়িত হইতেছে, অদ্যাবধি কোনো দেশই প্রদত্ত ঋণ ফেরত্ পাওয়া যাইবে কিনা তাহা লইয়া এতটুকু সংশয় প্রকাশ করিয়াছে বলিয়া আমাদের জানা নাই।
বরং কয়েক বত্সর আগে হইতেই বিশ্ব নেতৃবৃন্দ একদিকে যেমন বাংলাদেশের উন্নয়নকে ‘বিস্ময়কর’ বলিয়া অভিহিত করিয়া আসিতেছেন, অন্যদিকে তেমনি ইহার রূপকার হিসাবে শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন শুধু নহে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অধিকাংশ সূচকেও বাংলাদেশ যে তাকলাগানো সাফল্য দেখাইয়া আসিতেছে— তাহাও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল কর্তৃক স্বীকৃত। বলিলে অত্যুক্তি হইবে না যে, গত একদশকে বাংলাদেশের এই যে অভাবনীয় পরিবর্তন তাহা সম্ভব হইয়াছে শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বের গুণেই। শুধু তাহাই নহে, বাংলাদেশের এই স্বপ্নযাত্রায় তিনি যে একজন অবিকল্প নেতা হইয়া উঠিয়াছেন, তাহার সমালোচক-নিন্দুকদের ঝুলিতেও তাহা অস্বীকার করিবার মতো পুঁজি খুব বেশি নাই। সমালোচনা কেবল এইটুকু যে, দেশে বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা পূর্ণমাত্রায় বিরাজমান নাই। পাল্টা যুক্তি হিসাবে বলা যায়, কোন দেশেই-বা তাহা আছে? এখন বরং সংসদে ও বাহিরে কার্যকর ও গঠনমূলক ভূমিকা পালনে সক্ষম শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবই বেশি করিয়া অনুভূত হইতে পারে।
