আওয়ামী লীগ ও মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত হওয়া আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী আগাম জামিন চাইতে সোমবার হাইকোর্টে গিয়েছেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে বিষয়টি এখন পর্যনন্ত নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রথমে লতিফ সিদ্দিকীর একজন আইনজীবী হাইকোর্টে যাওয়ার কথা জানান। পরে অবশ্য ঐ আইনজীবী খবরটি অস্বীকার করেন। লতিফ সিদ্দিকীর আগমনের খবরে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করেন সুপ্রিম কোর্টের বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা।
এর আগে রবিবার রাতে আটটা ২১ মিনিটে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে করে ঢাকা পৌঁছান লতিফ সিদ্দিকী।
নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিতর্কিত মন্তব্য করেন আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। তাকে সংবর্ধনা দিতে জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘টাঙ্গাইল জেলা সমিতি’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘হজে ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গেছে। এদের কোনো কাম নাই। এদের কোনো প্রোডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে।’
তিনি বলেন, ‘গড়ে যদি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ লোক হজে যায়, প্রত্যেকের ৫ লাখ টাকা করে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়।’
তাবলিগ জামায়াতের সমালোচনা করে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘তাবলিগ জামাত প্রতিবছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদের তো কোনো কাম নাই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।’
আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর এই বক্তব্যের ভিডিও কিপ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন দল এবং সংগঠনের প থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়ার এবং গ্রেফতারের মাধ্যমে বিচারের সম্মুখীন করার দাবি ওঠে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনায় হয়। পরে তাকে আওয়ামী লীগ ও মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করা হয়।
এছাড়া তার আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে করেকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে আদালত।
এদিকে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত একটি মামলায় গত ১৫ অক্টোবর হাজিরার দিনে তিনি আদালতে না আসায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গতকাল রবিবার ওই পরোয়ানা জারি সংক্রান্তে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে কোন প্রতিবেদন না আসায় ঢাকার মহানগর হাকিম ইউনুস আলী খান আগামী ৩০ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও মানহানির অভিযোগে দন্ডবিধির ২৯৫ (ক), ২৯৮ ও ৫০০ ধারার অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগের এই নেতার বিরুদ্ধে গত ২ অক্টোবর মামলাটি করেন অ্যাডভোকেট শাহালম। ঐদিন বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ পূর্বক আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়।
