সড়কে মৃত্যুর মিছিল :দায়ী কে?

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৪০

জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাংলাদেশকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ২০১১ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে তা ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। এক জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশ তা অর্জন করেছে ৩৩ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার ২০টি দেশের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বাংলাদেশ ১৯তম। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন (নিসচা) বলছে, ২০১৮ সালে দেশে ৩১ হাজার ১০৩টি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। যাতে মারা গেছেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। এসব দুর্ঘটনা অধিকাংশ ঘটেছে মহাসড়কগুলোতে। যার ৪৬ শতাংশই গাড়ি চাপায়, তারপরই  মুখোমুখি সংঘর্ষের (১৯ শতাংশ) ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় যানবাহন হিসেবে এগিয়ে বাস ৩৩ শতাংশ, ট্রাক ৩০ শতাংশ, তারপর মোটরসাইকেল ২২ শতাংশ। এত সব দুর্ঘটনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট একক গোষ্ঠী বা ব্যক্তিকে দায়ী করা যায় না। এটি একটা প্রক্রিয়া হয়ে উঠেছে। অনেকটা অর্থনীতির দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের মতো। তবে এক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পুরো দায় দেওয়া না গেলেও, অধিকাংশ দায় দেওয়া যায়। সে দায় অবশ্যই চালকের। অনভিজ্ঞতা, বেপরোয়া গতি, আইন ভঙের অভ্যাস ও সামনের গাড়িকে অতিক্রম করার প্রয়াস; আমাদের দেশের অধিকাংশ গাড়ি চালকের মধ্যে আছে। আর এসব কারণেই সহজে ঘটতে পারছে সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনার বড় একটি কারণ হলো আইনের বাস্তবায়ন না হওয়া। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখবার জন্য দেশে আইন আছে ঠিকই, আইনের প্রয়োগ নেই। এর জন্য পুলিশের অনিহা বেশি দায়ী। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ব্যতীত সড়কের আইন অমান্য করার শাস্তিগুলো পুলিশ ঘুষের মাধ্যমেই সমাধান করে। রাজধানীর বাইরে পুলিশ কর্তৃক আটকানো মানে গাড়ি চালকের পকেট খালি হওয়া। সাধারণ সমস্যা না হলেও, পুলিশ হয়রানির উদ্দেশ্যে যে-কোনো একটি সমস্যা খুঁজে বের করে। যারা প্রতিনিয়ত সড়কে যানবাহন নিয়ে চলাচল করেন, তাদের কাছে বিষয়টি সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে। পুলিশের ঠিক এই জায়গাটিতে স্বচ্ছতা না এলে, সড়কে আইন অমান্যের প্রবণতা কমবে না। আইন মানলে যে সড়কে শৃঙ্খলা আসবে, তা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশের মতো অধিক জনবহুল দেশে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো বেশ জটিল। এতে পুলিশের লোকবল বৃদ্ধির বিষয়টিও জড়িত। তবে যেহারে আশঙ্কাজনকভাবে প্রতিদিন দেশে দুর্ঘটনা ঘটছে, তা সত্যিই উদ্বেগের কারণ। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের প্রশিক্ষণ ও পুলিশের আইন বাস্তবায়নে সক্ষমতা বৃদ্ধি—উভয়ই প্রয়োজন। সড়কের এই মৃত্যুর মিছিল থামাতে, সরকারকে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

n লেখক:শিক্ষার্থী, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা