শফিউল হত্যা: র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃত ৫ আসামি দোষ স্বীকার করেনি

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৪, ২১:১৫
 
 
 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক একেএম শফিউল ইসলাম (৫০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃত পাঁচজনকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়।
পৃথক তিনজন মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের (এমএম) খাস কামরায় বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আসামীরা বিচারকের সামনে নিজেদের দোষ স্বীকার করেননি। ফলে সংশ্লিষ্ট বিচারকগণ তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে মামলার সাক্ষি হিসেবে বগুড়ার চাপাতি বিক্রেতা অমলচন্দ্র কর্মকার ১৬৪ ধারায় মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পঞ্চম আদালতের বিচারক জয়ন্তী রাণী দাসের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন।
অন্যদিকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার ১১ আসামীর মধ্যে তিনজনকে মঙ্গলবার তৃতীয় দফায় সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরা হলেন— শিবির ‘ক্যাডার’ সাগর, জিন্নাত ও আরিফ। এই তিনজনসহ আটজনকে সোমবার দ্বিতীয় দফায় একদিনের পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছিলেন রাজশাহীর মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতের বিচারক শারমিন আক্তার। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাকি পাঁচজনকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, র‌্যাবের হাতে আটক ছয়জনকে গত রবিবার র‌্যাবের ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। গত সোমবার সন্ধ্যায় তাদের ঢাকা থেকে রাজশাহীতে আনা হয়। এরপর তাদের অধ্যাপক শফিউল ইসলাম হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। সোমবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় একমাত্র জামাই বাবু ব্যতিত বাকি পাঁচ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়। এরপর মঙ্গলবার দুপুর আড়াটার দিকে মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক খালিদ হাসানের আদালতে আসামি আরিফুল ইসলাম মানিক ও সিরাজুল ইসলাম কালু; মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতের বিচারক শারমিন আক্তারের আদালতে আসামি আব্দুস সালাম পিন্টু ও সবুজ শেখ এবং মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পঞ্চম আদালতের বিচারক জয়ন্ত রাণী দাসের আদালতে আসামি আল মামুন ও সাক্ষী অমল চন্দ্র কর্মকারকে হাজির করা হয়। এদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে শুধু অমল চন্দ্র কর্মকার স্বাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার ঢাকার সদর দফতরে প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব কর্মকর্তারা ছয় আসামিকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে দাবি করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার সেকশন অফিসার নাসরিন আখতারের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফিউলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যায় নেতৃত্ব দেয় কাটাখালি পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম মানিক। এর আগে স্ত্রী নাসরিনের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ জানাতে অধ্যাপক শফিউল ইসলামের কাছে গিয়েছিলেন যুবদল নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু। কিন্তু শফিউল তাকে অপমান করে বের করে দেন। এরপর রাজশাহী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক উজ্জ্বলকে নিয়ে গেলেও একইভাবে তারা অপমানিত হয়। এর জেরধরে আসামিরা হত্যার পরিকল্পনা করে বলে স্বীকার করেছে। ওই দিন আসামি মানিক সাংবাদিকদের বলেন, তাদের নেতা উজ্জ্বল এবং পিন্টুকে অপমান করায় তারা শিক্ষক শফিউলকে ‘সাইজ’ করার সিদ্ধান্ত নেন। র্যাব জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৫ নভেম্বর অধ্যাপক শফিউল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হলে পিন্টু তাকে অনুসরণ করেন এবং মোবাইল ফোনে তার গতিবিধি মানিককে জানান। সেদিন মোটরসাইকেলে এক সহকর্মীকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়েছিলেন শফিউল। ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিনোদপুরে সহকর্মীকে নামিয়ে দিয়ে চৌদ্দপাই এলাকার বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি। মহাসড়ক থেকে ২০০ গজ দূরে বাড়িতে যেতে কাঁচা রাস্তায় নামার পর তিনি হামলার মুখে পড়েন। ওই দিন র‌্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, আতাউর রহমানের বাড়ির পাশে কাঁচা রাস্তার ওপর পৌঁছালে পিন্টু ইশারা দিয়ে মানিককে দেখিয়ে দেয়। এ সময় মানিক মুখ দিয়ে শিস বাজিয়ে রাস্তার দুপাশে লুকিয়ে থাকা অন্যদের অভিযান শুরুর সঙ্কেত দেয়। এরপর সবাই মিলে অধ্যাপক শফিউলকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়।
মানিক সাংবাদিকদের বলেন, “পরিকল্পনা ছিল শফিউলের শরীরের নিচের অংশে আঘাত করার। সে অনুযায়ী সবাইকে চাকু আনতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি চাপাতি-রামদাও নিয়ে এসেছে। আর আচমকাই মাথায় (শফিউলের) প্রথম আঘাত করে সবুজ। এই আঘাতেই স্যার মাটিতে পড়ে যান, পরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে যে যার মতো সবাইকে চলে যেতে বলা হয়।”
র্যাব জানায়, পিন্টু পুরো বিষয়টি উজ্জ্বলকে মোবাইল ফোনে জানান।
উজ্জ্বল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক ছিলেন।