ফার্গুসনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৪, ০০:৫০

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি রাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণকে গুলি করে হত্যার দায় থেকে শ্বেতাঙ্গ পুলিশকে আদালত অব্যাহতি দেয়ার পর একে কেন্দ্র করে ফার্গুসনের বিক্ষোভের আগুন এখন পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়েছে। হাজার হাজার লোক গ্র্যান্ড জুরির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানাতে রাস্তায় নেমে এসেছে। তরুণের পরিবারও এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে শান্ত থাকার আহবান জানানো হয়েছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও সিএনএন’র।

বিক্ষোভ কেবল ফার্গুসনেই সীমাবদ্ধ নেই। নিউইয়র্কসহ বেশ কিছু শহরে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নিউইয়র্ক এবং সিয়াটলের বিক্ষোভ শান্ত থাকলেও অকল্যান্ড এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বিক্ষোভ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভের আগুনের শিখা এখন সেন্ট লুইস, ফিলাডেলফিয়া, আলবুকেরকিউ, ক্লিভল্যান্ড, লস অ্যাঞ্জেলস, মিনোপলিস, আটলান্টা, পোর্টল্যান্ড, শিকাগো এবং বোস্টনে গিয়ে পৌছেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ফার্গুসন শহরের প্রায় এক ডজন ভবন আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়েছে, কয়েকটি টহলযান পুড়িয়ে দিয়েছে এবং পুলিশের অবস্থান লক্ষ্য করে ইট ছুড়েছে। ভবনে অবৈধ অনুপ্রবেশ, অবৈধ অস্ত্র রাখা ও বেআইনি সমাবেশ করার অভিযোগে ৪৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দাঙ্গাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদুনে গ্যাস ও ফ্লাশ-ব্যাঙ ক্যানিস্টার ব্যবহার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতিকে হূদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন রাজ্য গভর্নর নিক্সন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, জীবন ও সম্পত্তি অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। সমাজে শান্তি বজায় রাখতে হবে। তিনি জানিয়েছেন, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষা করতে সোমবার দিন ৭শ ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে আরো কয়েকশ রক্ষী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। দাঙ্গা কবলিত এলাকায়     এখন ২,২০০ রক্ষী মোতায়েন আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শ্বেতাঙ্গ পুলিশকে আদালতের অব্যাহতির রায় প্রত্যাখ্যান করেছে তার পরিবার। নিহত কিশোর মাইকেল ব্রাউনের পরিবারের আইনজীবী তাদের পক্ষে এই রায় প্রত্যাখানের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আদালতের একটি গ্র্যান্ড জুরির দেয়া এই রায়কে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করেন। আইনজীবী বেনজামিন ক্রাম্প বলেন, যে গ্র্যান্ড জুরি আদালতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পুরো প্রক্রিয়ারই বেহাল দশা। তিনি স্থানীয় পুলিশের সাথে শহরের সরকারি কৌঁসুলির আঁতাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।

মাইকেল ব্রাউনকে হত্যার ঘটনা ছিল ৯ আগস্ট। ড্যারেন উইলসন নামে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশের গুলিতে সে মারা যায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশকে গুলি করতে হয়েছিল, এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ শহরের অধিকাংশ কৃষ্ণাঙ্গ বাসিন্দা। তারা এটাকে বর্ণবাদী হত্যা হিসাবে দেখে এবং ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিচার দাবি করে। দাবির মুখে, সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে ১২ জনকে নিয়ে, যাদের মধ্যে তিনজন মাত্র কৃষ্ণাঙ্গ, একটি জুরি বোর্ড গঠন করা হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে সাক্ষ্য প্রমাণ দেখে মঙ্গলবার স্থানীয় জুরি তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় যে, পুলিশ কর্মকর্তার কোনো অপরাধ তারা দেখতে পাননি। নিহত মাইকেল ব্রাউনের পরিবার এবং ফার্গুসনের কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী গভীর উত্কণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন জুরিদের রায় শোনার জন্য। সন্ধ্যার পর পরই যখন তা জানা গেল, তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের ব্যাপারে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর বিশাল একটি অংশ সবসময়ই সন্দিহান। থেকে থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ ওঠে।