ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর একমাত্র গোলে বুধবার সুইজারল্যান্ডের এফসি বাসেলের বিপক্ষে তাদের মাঠে ১-০ গোলে জয়ী হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এর ফলে চ্যাম্পিয়নস লীগে টানা ১৫টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড স্পর্শ করলো বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আর রোনাল্ডোর গোলের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭১টি।
বিরতির দশ মিনিট আগে করিম বেনজেমার কাটব্যাক থেকে পর্তুগিজ উইঙ্গার সেন্ট জ্যাকব পার্কে দলকে এগিয়ে দেন। যদিও গ্রুপের আগের চার ম্যাচে টানা জয়ের মাধ্যমে আগেই নক আউট পর্ব নিশ্চিত করেছিল গ্যালাকটিকোরা। আর এখন পাঁচ ম্যাচে শতভাগ সাফল্য নিয়ে গ্রুপ-বি এর শীর্ষ দল হিসেবেই শেষ ১৬তে উঠলো রিয়াল। রোনাল্ডো এই গোলের মাধ্যমে মাদ্রিদের সাবেক স্ট্রাইকার রাউলের সাথে সর্বকালের সেরা গোলের রেকর্ড স্পর্শ করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারতো।
গতকালই বার্সেলোনার হয়ে নিকোশিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার সুবাদে ৭৪ গোল করে চ্যাম্পিয়নস লিগের গোলের রেকর্ডের মালিক এখন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।
গত সেপ্টেম্বরে ঘরের মাঠ সানতিয়াগো বার্নাব্যুতে এই বাসেলকে ৫-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব শুরু করেছিল রিয়াল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কার্লো আনচেলত্তির দল এখন টানা ১৫টি ম্যাচ জয়ের নতুন ক্লাব রেকর্ড গড়লো।
ম্যাচ শেষে রিয়াল ম্যানেজার কার্লো আনচেলত্তি বলেছেন, আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলার চেষ্টা করেছি। আর তার মাধ্যমেই জয় তুলে নেয়াটাকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি। ১৫টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়তে পেরেও আমি খুশী। এটা অবশ্যই ক্লাব এবং খেলোয়াড়দের জন্য সুসংবাদ।
এদিকে আগের দুটি হোম ম্যাচে জয়ী বাসেল তাদের ১৭ বছর বয়সী ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে নিয়ে ভালই লড়াই করেছে। এই পরাজয় সত্তেও শেষ ম্যাচে আনফিল্ডে লিভারপুলের সাথে শুধুমাত্র ড্র করতে পারলেই শেষ ১৬ নিশ্চিত হবে সুইস চ্যাম্পিয়নদের।
আনচেলত্তিও বিশ্বাস করেন বাসেলের সেই যোগ্যতা আছে, এই মুহূর্তে আমি মনে করি বাসেলের লিভারপুলকে হারানো ক্ষমতা আছে।
সুইস দলটির ফিটনেস অনেক ভাল এবং তারা বেশ সংঘবদ্ধ দল। যদিও আনফিল্ডে জেতা এতটা সহজ নয়, কিন্তু সুইসরা এক্ষেত্রে কিছুটা হলেও এগিয়ে আছে।
আনচেলত্তি গতকাল নিয়মিত অধিনায়ক ও গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসের পরিবর্তে কেইলর নাভাসকে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়নস লীগে মাঠে নামার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
অসুস্থতার কারনে ডানি কারভাজালের স্থানে রাইট ব্যাকে নেমেছিলেন আলভারো আরবেলোয়া। এছাড়া আক্রমনভাগে যথারীতি ছিলেন হামেস রদ্রিগেজ, গ্যারেথ বেল, বেনজেমা এবং রোনাল্ডো।
৩৫ মিনিটে বেনজেমার সহায়তায় ডেডলক ভাঙ্গেন রোনাল্ডো। বাম দিক থেকে বেনজেমার দারুন এক পাসে রোনাল্ডো বাসেল গোলরক্ষক টমাস ভাকলিককে পরাস্ত করেন।
মেসির গোলের রেকর্ডের কাছাকাছি যেতে রোনাল্ডো আরেকটি সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তার ফ্রি-কিক কোনরকমে রক্ষা করেন ভাকলিক।
