প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম পীঠস্থান কুমিল্লার কোটবাড়ি শালবন বৌদ্ধবিহারে চলছে খনন কাজ। এরইমধ্যে সন্ধান পাওয়া গেছে সম্ভবত অষ্টম শতকে নির্মিত একটি গভীর কূপের। এছাড়াও পাওয়া গেছে ময়ূর, খরগোশ ও সিংহের প্রতিকৃতি সম্বলিত টেরাকোটা (পোড়া মাটির চিত্র) ফলক। এর আগে শালবন বৌদ্ধবিহারের ৩৭ একর জায়গায় বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত খননকাজে ১০টি বৌদ্ধ মন্দিরসহ উদ্ধার হয়েছে প্রাচীন সভ্যতার বহু নিদর্শন। গত ১ নভেম্বর থেকে এখানে নতুন করে খনন কাজ চলছে, চলবে আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত।
জানা গেছে, ১৯৫৫ সাল থেকে শালবন বৌদ্ধ বিহারে প্রাচীন সভ্যতার নির্দশন আবিষ্কারের জন্য খনন কাজ পরিচালনা শুরু হয়। প্রায় চার বছর খনন কাজ চালানোর পর তা বন্ধ থাকে। প্রায় অর্ধশতাব্দী কাল পর ২০০৬-০৭ অর্থবছরে পুনরায় এ বিহারে খননকাজ শুরু করা হয়। গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর থেকে ৩ মাসব্যাপী খনন কাজ পরিচালনাকালে বৌদ্ধবিহারে একটি ক্রুশাকৃতির মন্দির ও একটি স্তুপা আবিষ্কৃত হয় এবং পোড়া মাটির চিত্রফলক ও একটি বৌদ্ধ মূর্তিসহ বিভিন্ন টেরাকোটার প্রতিকৃতি ফলক পাওয়া যায়। এসবের মধ্যে ছিল নবম থেকে এগারো শতকের বিভিন্ন ধরনের ৬৮টি টেরাকোটা ও মূর্তি। শালবন বৌদ্ধবিহারের সীমানার মধ্যে কমপক্ষে শতাধিক স্থানে খনন কাজ পরিচালনা করা হলে প্রাচীন সভ্যতার আরো অনেক নির্দশন পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
