‘আর নয় কেমিক্যাল, আর নয় মৃত্যু, স্বাভাবিক জীবনের গ্যারান্টি চাই। সুস্থ সুন্দরভাবে বাঁচতে চাই। পুরান ঢাকা রাসায়নিক (কেমিক্যাল) মুক্ত দেখতে চাই।’ রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে গতকাল সোমবার পুরান ঢাকার চকবাজার থানা এলাকার চুড়িহাট্টায় কয়েকশ মানুষের শোক মিছিলে এভাবেই পুনর্ব্যক্ত করা হলো কেমিক্যাল বা রাসায়নিক মুক্ত এলাকার কথা। সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে চোখে পড়ে ঘটনাস্থলের সকল ভবন ছেয়ে ফেলা হয়েছে শোকের (কালো) পোস্টারে। সেই দিনদিকে স্মরণীয় করে রাখতে এলাকাবাসীসহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা শোকার্ত নারী, শিশুদের পাশাপাশি সর্ব শ্রেণি-পেশার লোকজনের বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে দেখা যায়। সবার চোখেমুখে ছিল শোকের আবহ।
ঘটনার পঞ্চম দিনে গতকাল সোমবার সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পরিবেশ অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসছে। ওই এলাকার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। এ সময় সেলিম এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, আগুনের কারণে গত পাঁচদিন ধরে দোকান বন্ধ করে রেখেছিলেন। আজ (সোমবার) দোকান খুলে কিছু বেচাকেনা করেছি। এ সময় ওই এলাকা ঘুরে আরও অন্তত ২০ জন দোকানদারের সঙ্গে কথা বলে একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। আরিফ নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, পুরান ঢাকার সকল এলাকাতেই কেমিক্যাল ব্যবসা আছে। তবে সরকার বর্তমানে এলাকাকে কেমিক্যাল মুক্ত করার যে উদ্যোগ নিয়েছে তাকে আমরা স্বাগত জানাই। আর আগুন দেখতে চাই না।
চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ আগুনে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশের মাধ্যমে গতকাল সোমবার রাষ্ট্রীয় শোক পালন করেছে দেশ। এর অংশ হিসেবে গতকাল সব সরকারি আধা সরকারি স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রীয় শোকের অংশ হিসেবে সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় সচিবালয়ের মন্ত্রী পরিষদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বুকেও কালো ব্যাজ দেখা গেছে।
প্রতিদিনের মতো পাঁচদিন পর গতকাল সোমবারও সকাল থেকেই চুড়িহাট্টার পাঁচ রাস্তায় দড়ি দিয়ে সাধারণের চলাচলের পথ বন্ধ করে রাখা ছিল। এর মধ্যে আজগর লেন, হায়দারবক্স লেন, নন্দকুমার দত্ত লেন ও ওয়াটারবক্স লেনের দড়ির সামনে গতকালও উত্সুক লোকজনের ভিড় ছিল। তাদের অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে এসেছেন ঘটনাস্থল দেখতে।
অনেক মানুষের ভিড়ে আগুনের ঘটনা দেখতে এসেছিল ছোট্ট জারা হায়াত খান। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে বাবার হাত ধরে সে চকবাজার এসেছিল। ওয়াহিদ ভবনের সামনে পোড়া একটি গাড়িতে এই শিশু পুঁতে দেয় একটি কালো পতাকা। শিশুটির বাবা কেএম শাহনেওয়াজ বলেন, চকবাজার থেকে প্রসাধনী সামগ্রী কিনে চিটাগাং রোডের দোকানে বিক্রি করতেন তিনি। ভয়াবহ এ ঘটনায় তার অনেক পরিচিতজন মারা গেছে। তাই স্ত্রী আর মেয়েকে নিয়ে চুড়িহাট্টায় শোক জানাতে এসেছেন তিনি। এ সময় তিনি যোগ করেন, ‘মেয়ে এখনো শোক বোঝে না, তবে বড় হয়ে বিষয়টি নিশ্চয়ই জানতে পারবে। তাই সঙ্গে নিয়ে এসেছি।’
