আদিবাসীদের মানবাধিকার পরিস্থিতি শীর্ষক গণশুনানি

‘কিছু না করলে, পাসপোর্ট দিন জন্মভূমি ছেড়ে চলে যাব’

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৪, ২০:০৫
 
‘নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকার কিছু না করে, তাহলে আমাকে পাসপোর্ট ভিসা করে দিন, আমি আমার জন্মভূমি ছেড়ে ভারত চলে যাব’ ভুমি রক্ষার কারণে ধারাবাহিক খুনের শিকার দিনাজপুরের সরেন পরিবারের সর্বশেষ সদস্য রবি সরেনের এমন দাবীতে কেঁপে উঠে ‘গণশুণানী স্থল’।
নির্যাতিত এমন ৭ জনের কষ্টমাখা নানা আবেগী কথার পরিপ্রেক্ষিতে আদিবাসী নির্যাতন ও ভূমি সমস্যার সমাধানে বিশেষ কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান।
বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাধানীর সিবিসিবি সেন্টারে ‘আদিবাসীদের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক গণশুনানি অনুষ্ঠানে তিনি এসকথা বলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অক্সফ্যামের সহযোগিতায় ‘ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইডি) এই গণশুনানীর আয়োজন করে। গণশুনানিতে জুরি হিসেবে ছিলেন আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।
অমানবিক সহিংসতার শিকার আদিবাসীদের বক্ত্যব্যের আইনি বিশ্লেষণ করে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট ফারজানা মনি। এক্ষেত্রে তিনি অনুষ্ঠানের প্রধান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান  ড. মিজানুর রহমানের কাছে প্রশ্ন করে বলেন, রাষ্ট্রই যদি সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িত থাকে তবে আদিবাীদের মুক্তির উপায় কী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের অনুরাগ চাকমা বলেন, আদিবাসীদে ক্ষমতায়নের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু তা ভুল প্রক্রিয়াতে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক বৈষম্যের বেড়াজালে আদিবাসীদেও বন্দী রাখা হচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর চাইতে অর্ধেকেরও কম বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সাংস্কৃতিক বৈষম্যের নিগড়েও থাকছে আদিবাসীরা। যার ফলশ্রুতিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী আবার বিস্ফোরণমুখ হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। 
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং বলেন, যে মানবিক সমাজের জন্য মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, সেই বাংলাদেশে আদিবাসীরা ক্রমেই বিলীন হচ্ছে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনে।
আইইডি’র নির্বাহী পরিচালক নুমান আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিশেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান।
বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য্য, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি অজয় রায়। গণশুনানীতে জুরি হিসেবে ছিলেন আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইইডি’র প্রকল্প সমন্বয়কারী সুবোধ এম. বাস্কে।