প্রাইভেটকারে উঠিয়ে ছিনতাইচক্রের ৬ জন গ্রেফতার

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৪, ২১:৪১
 
 
 
রাজধানীর ও গাজীপুর এলাকায় অফিসগামী এবং ঘরমুখী যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার নাম করে গাড়িতে তুলে ছিনতাইকারী চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১ সদস্যরা। তারা হলেন- শরিফুল ইসলাম সাগর (৩২), হানিফ ভূঁইয়া (৩৫), এনামুল হক মিন্টু (৪৯), শফিক (৩০), মনিরুজ্জামান ফকির (৩২) এবং ফারুক (৩৮)।
এসময় তাদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ওয়ান শ্যুটারগান, ৩ রাউন্ড গুলি, ১টি চাপাতি, ১টি ছুরি, হাত-পা বাঁধার প্লাস্টিকের রশি, জিআই তার এবং প্লাস উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সাগর ও হানিফের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। তারা ছিনতাইয়ের টাকায় জমি কেনাসহ অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন।
ছিনতাইকারীরা নিজেদের কেনা গাড়ি ছাড়াও বিভিন্ন রেন্ট-এ কারের গাড়ি ছিনতাই কাজে ব্যবহার করে আসছে।
বৃহস্পতিবার  র‌্যাব-১ উত্তরা কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ ছিনতাইকারীদের বিষয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, গ্রেফতকারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর মহাখালী, বনানী, উত্তরা ও গাজীপুর এলাকায় কয়েকটি ছিনতাইকারী চক্র অফিসগামী ও ঘরমুখী যাত্রীদের গাড়িতে তুলে অপহরণ করে ছিনতাই করে আসছিল। ছিনতাইকালে তারা অপহূত ব্যক্তির মূল্যবান জিনিসপত্রের পাশাপাশি জোরপূর্বক তার ডেবিট কার্ডের গোপন নম্বর নিয়ে তা থেকে টাকা তুলে নেয়। একইসঙ্গে অপহূতকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আত্মীয়-স্বজনকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বাধ্য করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা অপহূতদের গুলি ও ছুরিকাঘাত করে।
তিনি জানান, অপহরণকারীদের গ্রেফতারের জন্য র‌্যাব বেশ কিছুদিন যাবত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব--১ এর একটি দল এয়ারপোর্ট-বনানী রোডের শেওড়া এলাকায় গত বুধবার সন্ধ্যায় একটি চেকপোস্ট স্থাপন করে। একই সঙ্গে ছিনতাই কাজে ব্যবহূত গাড়িটিকে উত্তরা এলাকা থেকে অনুসরণ করতে থাকে। গাড়িটি শেওড়া এলাকায় পৌঁছালে সেখানে ওই গাড়িটি আটক করা হয়। আটককৃত প্রাইভেটকারটিতে (ঢাক মেট্রো-গ-১৫-৬১৩৯) অবস্থানরত ছিনতাইকারী চক্রের ৬ জনকে ছিনতাই কাজে ব্যবহূত একটি পিস্তলসহ দেশীও অস্ত্র উদ্ধারসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়। 
কর্নেল মাসুদ জানান, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের টঙ্গী, উত্তরা, খিলক্ষেত, শেওড়া, কাকলী, বনানী, জিয়া কলোনি এবং বিমানবন্দর থেকে অফিস ফেরত এবং ঘরমুখো পথচারীদের যাত্রী হিসেবে প্রাইভেটকারে উঠিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হাত-পা বেঁধে টাকা পয়সা, মোবাইল ও সঙ্গে থাকা মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই করে ফাঁকা জায়গায় নামিয়ে দিতেন। এমনকি তারা যাত্রীদের জিম্মি করে তাদের সঙ্গে থাকা মুল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিতেন। এছাড়াও তারা প্রাইভেটকারে যাত্রীদের উঠিয়ে যাত্রীদের মুক্তিপণ হিসেবে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের মোবাইল ফোন সংগ্রহ করে তাদের নির্ধারিত বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলতেন।