সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন) দশম গ্রেডে বেতন প্রদানের জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের উপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ রায় দেন। রায়ে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে সরকারকে এ আদেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
২০১৪ সালের ৯ মার্চ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার ঘোষণা আসে। ওই দিনই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের জন্য ১১ ও প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকদের জন্য ১২তম গ্রেড নির্ধারণ করে। এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতিসহ প্রধান শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন করে আসছিল। পরে ১১ ও ১২তম গ্রেড নির্ধারণের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ৪ মার্চ হাইকোর্টে রিট করেন বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজসহ সংক্ষুব্ধ ৪৫ শিক্ষক। রিটে বলা হয়, বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির। তারা বেতন পান ১১ ও ১২তম গ্রেডে। অথচ নন ক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণির অন্য সব চাকরিজীবী বেতন পেয়ে থাকেন দশম গ্রেডে। ফলে প্রধান শিক্ষকদের মর্যাদা দিলেও তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। রিটের উপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা প্রধান শিক্ষকদের ১১ ও ১২তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ কেন বে-আইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গতকাল এ রায় দেয়। আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সালাহউদ্দিন দোলন। তিনি বলেন, আপাতত রিটকারীদের ক্ষেত্রে এ রায় কার্যকর হবে।
