ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে জীবিত অবস্থায় ‘মৃত’ ঘোষণার একদিন পর অবশেষে সেই নারী মারা গেলেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জীবিত অবস্থায় ‘মৃত’ ঘোষণার পর গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় ‘সত্যিই’ মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক মুশফিকুর রহমান বলেন, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন অজ্ঞাত পরিচয়ে ওই নারী।
চিকিত্সকরা এবার ওই নারীর আলট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, এক্স-রেসহ বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে মৃত ঘোষণা করেছেন বলে জানা গেছে। গতকাল সকালে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান ওই নারীর শরীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে গিয়ে তার নড়াচড়া লক্ষ্য করেছেন জানান মুশফিকুর রহমান। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রথম দফায় তাকে ‘মৃত’ ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকত্সকরা। ‘মৃত্যুর প্রমাণপত্র’ (ডেথ সার্টিফিকেট) ইস্যু হয় তার নামে। মরদেহও নিতে আসেন মর্গের লোকজন। কিন্তু মৃত ঘোষণার ঘণ্ট?া তিনেক পর জেগে উঠে ওই নারী সবাইকে চমকে দেন। এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়।
জীবিত মানুষকে মৃত ঘোষণা করায় দুঃখ প্রকাশ করেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান। গতকাল সকালে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জীবিত নারীকে ‘মৃত’ ঘোষণার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এনামুল করিমকে এ তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট এলেই দোষী চিকিত্সকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জীবিত নারীকে মৃত ঘোষণা করায় নিজেও মর্মাহত হয়েছেন বলে জানান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর।
