নারায়ণগঞ্জের নয়ামাটিও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:২০

ঢাকার চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে নগরীর নয়ামাটি এলাকা নিয়ে। সেখানে বহুতল ভবনগুলো একটির সঙ্গে অন্যটি ঘেঁষে গড়ে উঠেছে। আছে বৈদ্যুতিক তার এবং ইন্টারনেট, ডিস, টি এন্ড টি তারের জঞ্জাল। প্রতিটি ভবনের কার্নিশ কিংবা ভবনের ফাঁকে জমে আছে ঝুটসহ ময়লা আবর্জনা। নয়ামাটির চেহারা অনেকটাই পুরান ঢাকার মতো। যেকোনো মুহূর্তে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে সেখানে। আগুন লাগলেও দ্রুত সেখানে পৌঁছাতে পারে না ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। কারণ গাড়ি প্রবেশের জন্য নেই পর্যাপ্ত প্রশস্ত রাস্তা। এছাড়া ওই এলাকায় নেই পর্যাপ্ত জলাধারও। ফলে যেকোনো দুর্ঘটনাই রূপ নিতে পারে ভয়াবহ কোনো প্রাণঘাতী ঘটনায়। সেখানে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। আর এমন ঝুঁকির মাঝেই লাখ লাখ মানুষ বসবাস করছে ও কাজ করে চলেছে হোসিয়ারি পল্লী নয়ামাটিতে।

জানা গেছে, জনবহুল এলাকা নয়ামাটিতে ক্ষুদ্র হোসিয়ারি ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কারখানাও রয়েছে একই জায়গায়। ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকে এলাকাটি। এখানে উত্পাদিত পণ্য বিদেশেও রপ্তানি হয়। বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা এখানে আসেন পণ্য কেনার জন্য। এত গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যবসায়িক এলাকার রাস্তাটি খুব বেশি সরু। একটি রিকশা প্রবেশ করলে হেঁটে চলাচলের তেমন কোনো জায়গা থাকে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নয়ামাটি এলাকায় অর্ধশতাধিক ছোট-বড় ভবন রয়েছে। এসব ভবনের অধিকাংশেই নিচতলায় দোকান ও দ্বিতীয় তলা থেকে সর্বোচ্চ ৭ম তলা পর্যন্ত হোসিয়ারি কারখানা। কয়েকশ কারখানায় কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করে এখানে। কারখানার পাশাপাশি বেশ কিছু ভবনে বসবাস করেন অসংখ্য মানুষ। এত মানুষের বসবাস এবং এত ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড চলে যেখানে, সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার জন্য নেই তেমন কোনো ব্যবস্থা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা কারখানায় নেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। নেই পানির সুব্যবস্থাও। একটি ভবনের কয়েক তলার জন্য মাত্র একটি বাথরুম। যেখানে সকাল বিকাল মিলিয়ে দুই বেলা পানি পাওয়া গেলেও সার্বক্ষণিক পানি থাকে না। স্থানীয় দোকানদার নিমাই দে জানান, নয়ামাটি হোসিয়ারি মার্কেটে এর আগে কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বেশ কয়েকটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত প্রবেশ করতে পারলে হয়তো ক্ষতি অনেক কম হতো। অগ্নিনির্বাপণেরও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। অর্ধেকের বেশি দোকানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই। আগে প্রতি দোকানের সামনে এক বালতি পানি ও এক বালতি বালু রাখতো; কিন্তু এগুলোও এখন কোনো দোকানের সামনে থাকে না। তাই আগুন লেগে গেলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা চান মিয়া বলেন, অনেক শ্রমিক কারখানায় ধূমপান করে জানালা দিয়ে বিড়ি বা সিগারেটের আগুন বাইরে ফেলে। এতে আগুন লাগার আশঙ্কা বেশি থাকে। এ থেকেই এর ছোট-বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আর আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আগুন ক্ষুদ্র পরিসরে লাগলেও প্রবেশের রাস্তা না থাকায় ফায়ার সার্ভিস তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ফলে আগুন সহজে ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষয়ক্ষতিও বেশি হয়। আরেক বাসিন্দা বিপ্লব সাহা বলেন, প্রতিটি দোকানে ও কারখানায় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকা উচিত। এছাড়া আগের মতো পানি ও বালি রাখাও জরুরি। আর প্রতিটি ভবনে আলাদা রিজার্ভ পানির ট্যাংক রাখলে আগুন লাগলে ট্যাংকের পানি ব্যবহার করা যাবে। এসবের জন্য সকলকে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি চাপও প্রয়োগ করতে হবে। অন্যথায় কোনো কিছু করা সম্ভব হবে না। ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (জোন-২) মামুনুর রশিদ জানান, সবার আগে সকলকে সচেতন হতে হবে। গ্যাসের চুলা কিংবা বিদ্যুত্ ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে। তা না হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাবে।