গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়লে লাগাতার কর্মসূচি: বিএনপি

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৮:৫০
যেদিন থেকে গ্যাস,বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে সেদিন থেকে লাগাতার কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। রবিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের মহাসচিবদের বৈঠক শেষে এক ব্রীফিংএ এই ঘোষণা দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,এখন আবার বিদ্যুত্ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এ দাম বৃদ্ধি জনজীবনে আরও বিপর্যয়ের কারণ হবে। আমরা বিশ দলীয় জোট এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। আর সিদ্ধান্ত না বদলিয়ে তা কার্যকর করা হলে আমরা প্রতিবাদ কর্মসূচি দেব। যেদিন থেকে এসবের দাম বাড়ানো হবে, সেদিন থেকে বিশ দলীয় জোট লাগাতার কর্মসূচি দেবে।
মির্জা ফখরুল বলেন,আওয়ামী সরকার এর আগেও গ্যাস-বিদ্যুতের দাম একাধিকবার বাড়িয়েছে। বর্তমান বিশ্ববাজারে তেলের দাম আগের চেয়ে অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগে যেখানে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ছিল ১২০ ডলার, তা কমে এখন নেমে এসেছে ৬০/৬৫ ডলারে। অথচ সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তেলের দাম কমায়নি।
বিশ দলীয় জোটের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল বলেন, ভারত থেকে লাখ লাখ টন চাল আমদানী করে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে সরকার। এই আমদানীর কারণে দেশের কৃষক সমাজ তাদের উত্পাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। অন্যদিকে, সরকারের ভুলনীতির কারণে দিনদিন সার, বীজসহ বিভিন্ন কৃষি সরঞ্জামের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, ইতিপূর্বে সরকার ভুট্টা আমদানি করে আমাদের দেশের ভুট্টা উত্পাদকদের ক্ষতিগ্রস্ত করে পথে বসিয়েছে। এখন বিপুল পরিমাণ চাল আমদানির মাধ্যমেও তারা কৃষকদের ধ্বংস করার পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশদলীয় জোট সরকারের এ পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একই সঙ্গে এসব কৃষিপণ্য আমদানী বন্ধেরও জোর দাবি জানাচ্ছে।
তিনি বলেন, ১৩ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে বিশ দলীয় জোটের জনসভা হবে। সে জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও জোট নেত্রী খালেদা জিয়া প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন। জোটের শরিক দলগুলো আলাদা আলাদাভাবে জনসভা সফলের লক্ষ্যে কাজ করে যাবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার বক্তব্যে কূটনীতিক সম্পর্কে নীতিবাচক প্রভাব পড়বে। শেখ হাসিনার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এর আগে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বিশদলীয় জোটের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়।
বৈঠকে অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর সুরা সদস্য ড. রিদওয়ানউল্লাহ শাহেদী, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব অধ্যাপক আহমেদ আবদুল কাদের, জাতীয় পার্টির(জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বিজেপির সালাউদ্দিন মতিন,এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুত্ফর রহমান, ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান, লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমদ, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মুহিউদ্দিন ইকরাম, ডিএল যুগ্ম সম্পাদক খোকন দাস, ইসলামিক পার্টির আবুল কাশেম, ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম সম্পাদক মুফতি তৈয়ব।