গোমতী নদীতে বেড়ি বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ!

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৪৬

কুমিল্লায় গোমতী নদীর দাউদকান্দি অংশে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দুই প্রভাবশালী প্রায় ১৬শ একর এলাকাজুড়ে বেড়িবাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ওই এলাকার মত্স্য ও কৃষির উপর নির্ভরশীল ৫ শতাধিক পরিবার নদী থেকে মত্স্য আহরণসহ জমিতে ধান ও কৃষিপণ্য উত্পাদন করতে পারছেন না। এ দিকে পানি প্রবাহ বন্ধ করে মাছ চাষের ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে দেশি মাছের প্রজনন।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ভারতের সোনামুড়া দিয়ে নেমে আসা খরস্রোতা গোমতী নদী কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় এসে মেঘনা নদীর সাথে মিশে এক অপরূপ দৃশ্য ধারণ করেছে। অথচ এ গোমতী ও মেঘনা নদীর মধ্যবর্তী স্থানে ভেসে ওঠা চরের কৃষি জমির মাঝখানে উপজেলার চেঙ্গারচর ইউনিয়নের গোলাপেরচর এলাকায় গোমতী নদীর অভ্যন্তরে জলাধারসহ প্রায় ১ হাজার ৬শ একর এলাকায় বেড়িবাঁধ দিয়ে স্থানীয় দুই প্রভাবশালী দুই বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছেন। ওই এলাকায় সরকারি অর্থায়নে নির্মিত বেশ কয়েকটি ব্রিজের নিচে মাটি ভরাটসহ নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়ায় দেশি মাছের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ দিকে অভিযুক্তরা জানান, গোমতী নদীর অভ্যন্তরে বেড়িবাঁধ দিয়ে মাছ চাষের অভিযোগ সঠিক নয়। স্থানীয়দের নিয়েই মাছ চাষ প্রকল্পটি চলছে।

স্থানীয় মত্স্যজীবী আব্দুল জলিল, মোতালেব মিয়া এবং কৃষক রফিকুল ইসলাম, আবিদ হোসেন অভিযোগ করেন, এক সময় ওই এলাকায় নদীতে মাছ ধরে এবং চরে ধান ও সবজি চাষ করে তাদের জীবন-জীবিকা চলতো। কিন্তু এ ধরনের প্রকল্পের কারণে দুই প্রভাবশালী এবং তাদের লোকজনের হুমকিতে তারা গোমতী নদীর ওই অংশে মাছ আহরণ কিংবা চরে চাষাবাদের কাজ করতে পারছেন না।

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহবুব আলম বলেন, গোমতী নদীর চেংরাকান্দি-গোলাপেরচর এলাকার ওই মত্স্য প্রকল্পটি সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। সেখানে তারা বেশকিছু অনিয়ম করেছে। তারা নদীর ওই স্থানে বাঁধ দিয়ে একদিকে সরকারি ব্রিজগুলোর কার্যকারিতা বন্ধ করেছে। অপরদিকে পানি নিয়ন্ত্রণ করায় সাধারণ মানুষের চলাচল এবং এলাকার কৃষি ও মত্স্যজীবীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কাজ যারা করেছে তাদের সহসা আইনের আওতায় আনা হবে।

জেলা মত্স্য কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুস আখন্দ জানান, নদীর ওই স্থান দিয়ে এক সময় নৌকা চলতো এবং স্থানীয় জেলেরা দেশি মাছ আহরণ করতো ও কৃষক ধান চাষ করতো। কিন্তু বেড়িবাঁধ দিয়ে মাছ চাষের ফলে সেই কর্মযজ্ঞ বন্ধসহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নদীর পানি প্রবাহ এবং দেশি মাছের প্রজননও। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাউদকান্দি উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীর জানান, কেউ নদীতে বেড়িবাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করলে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।