ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সুশীল সমাজের নজরদারি বৃদ্ধির তাগিদ

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:২৮

ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতার চর্চা জোরদার করতে নিয়ন্ত্রণ কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি সুশীল সমাজেরও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের শক্তিশালী হওয়া জরুরি। কেননা নজরদারি না বাড়লে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় না। ব্যাংকিং খাতে বাড়তি নজরদারি (এডিশনাল ভয়েস) রাখার জন্য সুশীল সমাজের প্রতি পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত অর্থনীতিবিদ বিশ্বব্যাংকের ভারতের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. জুনায়েদ কামাল আহমাদ।

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত ১৮তম নুরুল মতিন স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম মিলনায়তনে ‘ব্যাংকিংয়ে নৈতিকতা’ বিষয়ক ওই বক্তৃতা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএম গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম। উল্লেখ্য, ব্যাংক খাতে নৈতিকতা শীর্ষক এ বক্তৃতা অনুষ্ঠান ১৯৯৭ সাল থেকে চালু করেছে বিআইবিএম।

মূল প্রবন্ধে ড. জুনায়েদ বলেন, ব্যাংক খাতের নৈতিকতার চর্চা বাড়ানোর জন্য প্রথমে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। খুব সহজে নৈতিকতার চর্চা চালু করা কঠিন। এজন্য আর্থিক ব্যবস্থায় সরকারী নীতি এবং নিয়ন্ত্রণ কাঠামো শক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং সকল কর্মীদের সুশাসন বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর দুর্বলতার কারণে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় যাতে কোন ধরণের গাফিলতি না থাকে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, কিছু অনিয়মের কারণে অর্জনগুলো মলিন হয়ে যায়। তবে ব্যাংক খাতের অনিয়মের কারণেই শুধু নয়, কিছু ঋণগ্রহণকারীর উচ্চাকাঙ্খাও ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি তৈরি করছে।

উল্লেখ্য, এ. এফ.এম. নুরুল মতিন ১৯২৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫১ সালে তদানিন্তন স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের গবেষণা বিভাগে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালে তার চাকরি ওই ব্যাংকের অপারেশন বিভাগে স্থানান্তরিত হয়। তিনি জন্মগতভাবে বাংলাদেশি। এর আগে তিনি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৯১ সালে জুনায়েদ কামাল আহমাদ ইয়াং প্রফেশনাল হিসেবে বিশ্বব্যাংকে যোগদান করেন। স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে অ্যাপ্লাইড ইকোনমিকসে তিনি পিএইচডি লাভ করেন। এর আগে হার্ভাড ইউনির্ভাসিটি থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ব্রাউন ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।