সংসদে বিমান হাইজ্যাক চেষ্টা নিয়ে আলোচনা

এমপিদের নিয়ে সর্বদলীয় কমিটি গঠনের দাবি

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:২৯

বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনা তদন্তে সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সর্বদলীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে সংসদে। একইসঙ্গে যাত্রীদের নিরাপদে অবতরণ এবং সাহসিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার স্বীকৃতি হিসেবে ওই বিমানের পাইলট, কো-পাইলট ও ক্রুদের বিশেষভাবে পুরস্কৃত করার দাবি জানানো হয়েছে।

গতকাল সোমবার সংসদে মাগরিবের বিরতির পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী বিষয়টির অবতারণা করে বলেন, এইভাবে কোনো ব্যক্তি অস্ত্র নিয়ে বিমানে ঢুকতে পারে না। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সর্বদলীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে এই সংসদকে বিস্তারিত জানাতে হবে।

এরপর বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল বলেন, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও টেলিভিশনে দেখলাম, বলা হয়েছে- আমি নাকি ওই বিমানের যাত্রী ছিলাম। আমি ওই বিমানের যাত্রী ছিলাম না। চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে আমি ওই বিমানবন্দরে এসেছিলাম ঢাকায় ফেরার জন্য। সেখানে তখন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরও উপস্থিত ছিলেন। আমরা দু’জন সিদ্ধান্ত নিলাম, সংসদ সদস্য হিসেবে বিষয়টি তদারকি করা আমাদেরও কর্তব্য। এজন্য আমরা একেবারে টারমাকে ঢুকে পড়ি এবং একেবারে শেষ পর্যন্ত সেখানে থাকি।

নিজের দেখা ঘটনা ও পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য বাদল বলেন, আমার ফাইন্ডিং হলো- একজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি বিমানে পেছন দিক থেকে গালাগালি করতে করতে সামনের দিকে আসতে থাকে। সে পাইলটকে দরজা খুলতে বলে। পাইলট দরজা খুলেননি। পত্র-পত্রিকায় লেখা হয়েছে, পাইলটের সঙ্গে অনেককিছু হয়েছে। না, পাইলটের সঙ্গে মল্লযুদ্ধ হয়নি। পাইলট তার সঙ্গে কথা বলে তাকে ব্যস্ত রাখার কৌশল নেন। পাইলট অত্যন্ত দূরদর্শিতা ও সাহসের সঙ্গে বিমান অবতরণ করেন। বিমানের ক্রুদেরও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাহসী ভূমিকা ছিল। ক্রুরা ইকোনমি ও বিজনেস সিটের মাঝখানে পর্দা লাগিয়ে দেন। বিমানটি অবতরণের পর বিমানের ডানার পাশে থাকা জরুরি নির্গমন পথ দিয়ে যাত্রীদের বের করে আনা হয়। পরে পাইলট যখন বেরিয়ে আসেন তার সঙ্গে আমার কথা হয়। পাইলট বললেন, ভেতরে ওই ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ নেই, এখন অপারেশন চালানো যায়। পরে সেনাকমান্ডো অফিসার আমাকে জানান, ভেতরে ওই ব্যক্তি অফেনসিভ নিয়েছে, যার কারণে তার সঙ্গে আমাদেরকে নেগোসিয়েশনে যেতে হয়েছে। এরপর অপারেশনে ওই ব্যক্তি নিহত হয়।

মইন উদ্দীন খান বাদল আরও বলেন, পাইলট, কো-পাইলট ও ক্রুরা অসীম সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাব, তাদেরকে পুরস্কৃত করা উচিত। একইসঙ্গে চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাহসী ভূমিকার জন্য ফায়ার ব্রিগেডের সংশ্লিষ্ট সদস্যদেরও পুরস্কৃত করতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে, রুস্তম আলী ফরাজী ও বাদলের বক্তব্যের আগে কার্যপ্রণালী বিধি ৩০০ বিধিতে গতকাল সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে বলেন, পাইলট অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা, পেশাদারিত্বে সঙ্গে কুচক্রীকে কথোপকথনে ব্যস্ত রেখে দ্রুত নিরাপদে বিমানটি অবতরণ করতে সক্ষম হন। যার ফলে সকল যাত্রী ও ক্রুরা নিরাপদে বের হয়ে আসতে পারেন।