গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট দিয়ে হার্টের ওষুধ, পানি দিয়ে নাকের ড্রপ

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৪, ০০:০৪

পুরান ঢাকার কসাইটুলির ৬ নম্বর খিলঘর লেনের একটি সাধারণ বাসা। আকবর হোসেন ভাসানী নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার নিজস্ব ফর্মুলায় সেখানে তৈরি করছিলেন ‘জীবন রক্ষাকারী’ ওষুধ। ঘরেই তিনি বানান ধনুস্টংকারের ইনজেকশন, নাকের ড্রপ ও হূদরোগের ওষুধ। তিনি দুই টাকা মূল্যের ব্যাথানাশক ওষুধ এট্রোফাইনের বোতল থেকে নাম মুছে ভেতরে পানি ভরে ধনুস্টংকারের ওষুধের নাম বসিয়ে দেন। তারপর নকল প্রতিটি ধনুস্টংকারের ওষুধ বিক্রি করেন এক হাজার টাকায়। না জেনে অনেক প্রতিষ্ঠান এই নকল ধনুস্টংকারের ওষুধ ইনজেকশনের মাধ্যমে শিশুদের শরীরে প্রবেশও করেছে। গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ অ্যানটেক দিয়ে আকবর হোসেন বানান হূদরোগের ‘স্ট্যাকোর’ ওষুধ। ওয়াসার পানি দিয়ে নাকের ড্রপ তৈরি করেন। এছাড়া ব্যাথানাশক রোলাক ও এন্টিবায়োটিক এজিথ্রোমাইসিনসহ ছয় ধরনের জীবন রক্ষাকারী ওষুধও তিনি এভাবে দীর্ঘদির ধরে নকল করছিলেন। নকল ও ভেজাল এসব ওষুধ দেশের বৃহত্তম ওষুধের পাইকারি মার্কেট মিডফোর্ডে বিক্রি হচ্ছে এবং সেখান থেকে বাজারজাত হচ্ছে সারাদেশে।

গতকাল সোমবার র্যাব-১০ এর পরিচালনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আনোয়ার পাশার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত আকবর হোসেন ভাসানীর নকল ওষুধের কারখানায় অভিযান চালান। ওই সময়ও তিনি নকল ওষুধ তৈরির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। মোবাইল কোর্ট তাকে হাতেনাতে আটক করে। তার কাছ থেকে ওষুধের মোড়ক, লেবেল, ফয়েল ও বিভিন্ন ধরনের উপকরণ ও যন্ত্রপাতি জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দুই বছর কারাদ্ল দিয়ে আকবর হোসেন ভাসানীকে আদালত কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।
আকবর হোসেন ভাসানী ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানান। তিনি জানান, যে ওষুধগুলো বাজারে বেশি চলে ও দাম বেশি সেগুলোর ফয়েলের ভিতর নানা জিনিস ভরে আসল বলে সেগুলো বাজারে ছাড়েন। কোনো কোনো ওষুধে কেমিক্যালও মেশানো হয়।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নাকের ডগায় অর্থাত্ রাজধানীতেই এ ধরনের বিষাক্ত, নকল ও ভেজাল ওষুধ দেদারসে তৈরি হচ্ছে। সেগুলো আবার মিডফোর্ড ওষুধের বৃহত্তম মার্কেটেও বিক্রি হচ্ছে। এভাবে নকল ও ভেজাল ওষুধ তৈরি করে আকবর হোসেন ভাসানীর মতো নকল ওষুধ প্রস্তুতকারীরা প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারে অনেকগুলো কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা পান। যে কারণে তাদের বেশিদিন জেলেও রাখা যায় না।
এদিকে নকল ওষুধ প্রস্তুত ও বাজারজাতকরণের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের স্বনামধন্য চিকিত্সক, ভোক্তা সমাজ ও মানবাধিকরা কর্মীরা। তারা বলেন, যারা এভাবে মানুষ মারছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক ও প্রখ্যাত শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন বলেন, এ ধরনের ভেজাল, নকল ও বিষাক্ত ওষুধ শিশুর জন্য খু্বই বিপজ্জনক। এগুলো গ্রহণ করলে শিশুসহ সব বয়সী মানুষের ক্ষেত্রেই মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে।