শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের শততম জন্মবর্ষ উপলক্ষে মাসব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শিল্পকর্ম প্রদর্শনী উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হবে। দুপুরে চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আগামী বছরের ১২ জানুয়ারি শেষ হবে মাসব্যাপী এই বর্ণাঢ্য কর্মসূচি। কর্মসূচির সব আয়োজন সদ্যপ্রয়াত বরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর স্মৃতির উদ্দেশে উত্সর্গ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের ডিন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন।
নিসার হোসেন বলেন, ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সারা বছরের কাজের মূল্যায়ন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরের মতো এ বছরও তার জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করবে চারুকলা অনুষদ। তবে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের শততম জন্মবর্ষ উপলক্ষে এ বছর ব্যতিক্রম এবং বড় পরিসরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে চারুকলা অনুষদ।’
মাসব্যাপী আয়োজনের মধ্যে রয়েছে— বৃহস্পতিবার চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর উদ্বোধন, ২৬ ডিসেম্বর সকালে জয়নুল মেলার উদ্বোধন এবং বিকালে স্মৃতিচারণামূলক অনুষ্ঠান ও দেশের গান, ২৭ ডিসেম্বর সকালে শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা এবং বিকালে স্মৃতিচারণামূলক অনুষ্ঠান ও বাউল গান-ভক্তি সংগীত, ২৮ ডিসেম্বর বিকালে স্মৃতিচারণামূলক অনুষ্ঠান এবং বিকালে নজরুল-রবীন্দ্র সংগীত, ২৯ ডিসেম্বর সকালে শিল্পাচার্যের সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ, পুনর্মিলনী ও সম্মাননা প্রদান এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং বিকালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়া, আগামী বছরের ৫ ও ৬ জানুয়ারি অনুষদ মিলনায়তনে এবং ১১ ও ১২ জানুয়ারি জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে পৃথক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পকলা আন্দোলনের পথিকৃত্। শিল্পকলায় অবদানের জন্য তার জীবদ্দশায় তিনি পেয়েছেন ‘শিল্পাচার্য’ খেতাব। তাই তিনি ‘শিল্পাচার্য’ নামে পরিচিত। তার বিখ্যাত চিত্রকর্মের মধ্যে রয়েছে— দুর্ভিক্ষ-চিত্রমালা, সংগ্রাম, সাঁওতাল রমণী, ঝড় এবং আরো অনেক ছবি। তিনি ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার কেন্দুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
