ফেসবুকে সন্ত্রাসবাদে উত্সাহের অভিযোগ

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীর ৫ বছর ৩ মাসের জেল

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৪, ২১:০৮
 
 
 
 
 
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদে উত্সাহিত করার অভিযোগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ব্রিটিশ নারীকে পাঁচ বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি আদালত। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার কিংস্টন ক্রাউন কোর্ট এ সাজা দেয়। লুটনের বাসিন্দা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নারী রুনা খান ২০১৩ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সন্ত্রাসবাদের প্রকাশনা প্রচারের চারটি অভিযোগের কথা স্বীকার করেন। গত জুলাইতে তাকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করে। খবর দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও বিবিসির।
দি ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রুনা খান (৩৫) ফেসবুকে কট্টর মতামত তুলে ধরে মুসলিম নারীদের তাদের স্বামী, সন্তান ও বন্ধুদের ‘জিহাদে’ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। আত্মঘাতী পোশাক সংবলিত একটি ছবিও পোস্ট করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ছয় সন্তানের মা রুনা খান ফেসবুকে তার শিশু ছেলের হাতে খেলনা বন্দুক দিয়ে ছবি তুলেছেন এবং আট বছরের আরেক ছেলেকে জিহাদে পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
আদালতে তার বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণে বলা হয়, রুনা খান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রুনা খান ‘মুজাহিদ শিশুদের উত্থান’ শিরোনামের একটি নিবন্ধের প্রশংসা করেছিলেন। যেটিতে মূলত শিশুদের জিহাদের জন্য প্রস্তুত করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিচারক পিটার বার্টস বলেন, নিবন্ধটি অপরিহার্যভাবেই নারীদের জিহাদে উত্সাহিত করার একটি সারগ্রন্থ।
রুনা ফেসবুকে জিহাদের যেতে উত্সাহ দেয়ার জন্য লিখেছিলেন, ‘বোনরা, তোমরা যদি তোমাদের ছেলে, স্বামী ও ভাইদের ভালোবাসো, তবে আল্লাহ্র পথে যুদ্ধে প্রেরণের মাধ্যমে প্রমাণ করো। তারা জন্নাতে প্রবেশ করুক— এটা কি চাও না? হোয়াটসঅ্যাপের ম্যাসেজেও বিভিন্ন বার সিরিয়া যাওয়ার ব্যাপারে তার আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন রুনা খান। গ্রেফতারের পর পুলিশ রুনার দুই বছরের ছেলের হাতে খেলনা বন্দুকসহ একটি ছবি ও তার ফোনে জিহাদি বই উদ্ধার করে। তার বড় ছেলের সঙ্গে তরবারি নিয়ে তোলা একটি ছবিও পাওয়ার কথা আদালতে জানানো হয়। এ ছাড়া, সন্ত্রাসবাদীদের একটি ওয়েবসাইটে ছেলেকে জিহাদে পাঠানোর ইচ্ছার কথা লিখেছিলেন তিনি। গত রবিবার বিবিসি নিউজনাইটকে দেয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছিলেন ‘আমি আমার বিশ্বাসের বিষয়ই পোস্ট করেছি।’ এতে বলা হয়, সিলেটে জন্ম নেয়া রুনা খান তিন বছর আগে স্থানীয় একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপক পদে চাকরি করতেন। চাকরি হারানোর পর তিনি ইসলামি কট্টরপন্থী হয়ে উঠতে থাকেন।
উল্লেখ্য, সিরিয়ায় কথিত জিহাদে অংশ নেয়ার দায়ে গত সপ্তাহে তিন ব্রিটিশ নাগরিককে সাজা দেয় যুক্তরাজ্যের আদালত। এদের মধ্যে মাসুদুর চৌধুরী ও মোহাম্মদ আহমদ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং ইউসুফ সারওয়ার পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এবার রুনা খানকে কারাদণ্ড দেয়ার ঘটনা ঘটল।