বেঙ্গল শিল্পালয়ে কাইয়ুম চৌধুরীর স্মরণসভা

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৪, ২২:০০
 
 
 
 
‘প্রাণী জগত্, পক্ষিকুল, প্রকৃতির বাস্তবতাকে তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন তার শিল্প কর্মে। এটাই তাকে বিশিষ্ট করে তুলেছে। তিনি মূলত প্রচ্ছদ একে পরিচিত হলেও তার বিচিত্র কর্মের পরিচয় মেলে তার বিভিন্ন সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে।’ বিশিষ্ট শিল্পী, বাঙালির স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষার রূপকার, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সুহূদ এবং শিল্প ও শিল্পীর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি প্রয়াত কাইয়ুম চৌধুরীকে স্মরণ করে এসব কথা বলেন বক্তারা।
শুক্রবার বিকালে ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয় এই বরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মরণে স্মরণসভায় আয়োজন করে। গত ৩০ নভেম্বর ২০১৪ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, বক্তব্য রাখেন চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী। স্মরণ সভায় সংগীত পরিবেশন  ও ছবি-প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে বিশিষ্ট এ শিল্পীকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন মহিউজ্জামান চৌধুরী, লাইসা আহমদ লিসা, শারমিন সাথী ইসলাম এবং তানিয়া মান্নান।
এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, আমাদের দীর্ঘ ষাট বছরের সম্পর্ক, ষাট সেকেন্ডে ছিন্ন হয়ে গেল। মৃত্যু তো অনিবার্য, তবে এ ধরনের মৃত্যুই ভালো। তিনি মানুষকে কখনো কষ্ট দেননি, নিজেও কষ্ট পাননি। আনিসুজ্জামান বলেন, অনেক বড় মাপের মানুষ ছিলেন তিনি। স্বপ্ন দেখেতেন একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের।
চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী বলেন, তার পেইন্টিং দিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। সংগীতের মধ্যে দিয়ে তাকে স্মরণ করছি। তিনি কাজের মধ্য দিয়ে আচমকা চলে গেলেন, এটা বিশ্বাস হয় না। চলে যেতেই হয় সবাইকে এটাই নিয়ম। তিনি বলেন, কাইয়ূম চৌধুরী আমাদের ভবিষ্যতের পথ তৈরি করে দিয়ে গেছেন। তিনি বলতেন, আমাদের একত্রিত হওয়া উচিত। কেননা, শিল্পীরা কে কি ভাবছে, তরুণদের ভাবনাগুলো সবকিছু আমাদের একত্র করা উচিত, একটি সংগঠনের মধ্য দিয়ে। তিনি বলেন, শিল্পী হিসেবে যখন ছবি আঁকতে বসব তাকে স্মরণ করব।
বরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩২ সালে ফেনীতে। তিনি ১৯৫৪ সালে গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউট অব আর্টস (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ) থেকে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এ পর্যন্ত তার ৬টি একক প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছে এবং তিনি বহু দলবদ্ধ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি ১৯৬১ সালে জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে ১ম পুরস্কার, ১৯৭৫ সালে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্বর্ণপদক, ১৯৭৭ সালে ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী পুরস্কার’, ১৯৮৬ সালে সম্মানজনক ‘একুশে পদক’, ১৯৯৯ সালে ‘সুলতান পদক’, ২০০৭ সালে ‘বার্জার লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার’সহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। তিনি ১৯৬৫ সালে ঢাকা চারুকলা ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ২০০০ সালে অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।