উখিয়ায় পাহাড় কাটা ঠেকায় কে

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪, ০১:১৪

উখিয়ায় ভুমি দস্যুদের বেপরোয়া তত্পরতা বেড়েই চলছে। মাটি বাণিজ্যের সাথে জড়িত সিন্ডিকেটের মালিকানাধীন শতাধিক ডাম্পিং গাড়ি পাহাড়কাটা মাটি পাচার করলেও দেখার কেউ নেই। মাঝে-মধ্যে পুলিশ হানা দিয়ে মাটিভর্তি দু’য়েকটি গাড়ি আটক করলেও আঁতাতের মাধ্যমে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। পাহাড় দেখভাল করার দায়িত্বে নিয়োজিত বনকর্মীরা নিরাপত্তার অজুহাত তুলে এসব তান্ডব দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে চলার কারণে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য চলে এসেছে শূন্যের কোটায়। মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন পরিবেশবাদী মহল।

উখিয়া বন রেঞ্জের আওতায় ৭টি বনবিট ও একটি টহল ফাঁড়ির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর বনভূমি। অপরদিকে দেশে দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্যটন স্পট একই উপজেলার ইনানী বন রেঞ্জের ৪টি বনবিটের আওতায় রয়েছে প্রায় ৮ হাজার ২শ হেক্টর বনভূমি। ২ রেঞ্জের প্রায় ১৮ হাজার হেক্টরেরও অধিক বনভূমির দুই-তৃতীয়াংশ পাহাড় নিয়ে বনভূমির অবস্থান বলে জানিয়েছেন ইনানী ও উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা। তাদের দাবি, লোকবল সংকটের কারণে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনভূমি দখল ও পাহাড় কর্তন প্রতিরোধ করতে পারছেন না। নির্বিচারে পাহাড় কাটার কথা স্বীকার করে তারা জানান, এলাকাভিত্তিক ভূমিদস্যু পাহাড় কর্তন করে মাটি পাচার কাজে জড়িত। এব্যাপারে ২ রেঞ্জে প্রায় ৩০টি বন মামলায় শতাধিক লোককে আসামি করা হয়েছে। সমপ্রতি উখিয়া উচ্চবিদ্যালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ভূ-সম্পদ অপব্যবহারের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র ভূমি সচিব মোঃ শফিউল আলম উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যমান পাহাড় কর্তনের ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বনসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি বনাঞ্চলে অবৈধ বসবাস প্রতিরোধ করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে জানমাল রক্ষার্থে পাহাড় কাটা প্রতিরোধের জন্য তিনি স্থানীয় সুশীল সমাজের লোকজনদের আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান।
 সরেজমিন উখিয়া বন রেঞ্জের দোছরী ও ইনানী বন রেঞ্জের চোয়াংখালী বনবিট এলাকায় দেখা যায়,  শত শত পাহাড় ও টিলা কর্তন করে শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসীরা জানান, চোয়াংখালী বিট কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগসাজশে পাহাড় কাটা অব্যাহত রয়েছে। তারা জানান, গাড়িপ্রতি মাটি ৭শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। দৈনিক ৪/৫টি ডাম্পার শতাধিক ট্রিপ মাটি বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি উন্নয়ন কাজে সরবরাহ করছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, অব্যাহত পাহাড় কাটার ফলে গত বর্ষা মৌসুমে সোনাইছড়ি এলাকায় বিশাল পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। সোনাইছড়ির আশেপাশে গ্রামবাসীর মধ্যে পাহাড় ধস-আতংক বিরাজ করছে। ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা মীর কাশেম জানান, সমপ্রতি তিনি ইনানী রেঞ্জের কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। তাই পাহাড় কাটার ব্যাপারে তিনি অবগত নন।

ইনানী বনরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, মান্দাতার আমলের বন আইনের তোয়াক্কা করছে ভূমিদুস্যরা। এদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া শুরু করা না হলে উখিয়ার বনসম্পদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। কক্সবাজার বনবিভাগীয় কর্মকর্তা আবদুল আওয়াল সরকার স্ব-স্ব বনবিটে লোকবল সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, অবৈধ দখলদার ও পাহাড় কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।