নির্যাতনের কথা স্বীকার করে বিপাকে সিআইএ প্রধান

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪, ০১:১৬

যুক্তরাষ্ট্রে টুইন টাওয়ার হামলার পর জঙ্গি সন্দেহে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে কিছু ‘ঘৃণ্য পদ্ধতি’ ব্যবহার করা হলেও তার মাধ্যমে সিআইএ কর্মীরা ‘সঠিক কিছু তথ্য’ বের করতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন গোয়েন্দা সংস্থাটির পরিচালক জন ব্রেনান। বন্দিদের জেরায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী এই গোয়েন্দা সংস্থার ‘নিষ্ঠুর’ পন্থা ব্যবহারের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সমালোচনার মধ্যে এভাবেই তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করলেন। অর্থাত্ কার্যত এই নির্যাতনের কথা স্বীকার করে বিপাকে পড়ে গেছেন সিআইএ প্রধান। গোটা বিশ্ব থেকে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছেন তিনি। এমনটি যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তার কঠোর সমালোচনা করা হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার  যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট গোয়েন্দা কমিটি এক প্রতিবেদনে সিআইএর বন্দি নির্যাতনের তথ্য প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অবিরাম পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন করা ছাড়াও যৌন নির্যাতনের হুমকি দিয়ে, পায়ুপথে পানি ঢুকিয়ে, চড় মেরে, ঠান্ডার মধ্যে রেখে, হেনস্থা করে এমনকি দিনের পর দিন ঘুমাতে না দিয়ে বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলেছে। নির্মম কৌশলে জেরা করা নিয়ে সিআইএ জনগণকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা প্রকাশ্যে যতটুকু নির্যাতনের কথা বলেছে প্রকৃতপক্ষে তার চেয়েও অনেক বেশি নির্মম নির্যাতন করেছে।
তারপরও এ পদ্ধতিতে হুমকি মোকাবেলা করার মতো কার্যকর কোনো তথ্য সংগ্রহ করতে গোয়েন্দা সংস্থাটি ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করে সিনেট কমিটি। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিশ্বব্যাপী সিআইএর নিষ্ঠুরতা নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হওয়ায় সংস্থাটির বর্তমান দায়িত্বশীলদের মধ্যে ব্রেনানই প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে মুখ খুললেন। বৃহস্পতিবার ভার্জিনিয়ায় সংস্থার সদর দপ্তরে বিরল এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইএ পরিচালক ব্রেনান আটক সন্দেহভাজনদের জেরার কিছু পন্থা ‘নিষ্ঠুর’ এবং ‘ঘৃণ্য’ ছিল বলে স্বীকার করেন। এরপর থেকেই তোপের মুখে পড়েছেন তিনি।
তবে তার দাবি, কিছু কর্মকর্তা এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে এমন কাজ করলেও অধিকাংশই তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। সিনেট কমিটির প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর একে ‘একপাক্ষিক’ ও ‘ত্রুটিপূর্ণ‘ আখ্যায়িত করে গোয়েন্দা সংস্থাটির সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, জিজ্ঞাসাবাদ কর্মসূচি নিয়ে সিআইএ মিথ্যাচার করেনি। সাবেক ওই সহকর্মীদের পথে হেঁটেছেন ব্রেনানও। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “যখন কোনো কিছুর উত্তর সহজে পাওয়া যাচ্ছিল না, সে সময় সিআইএ সঠিক অনেক কিছু করেছে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে (টুইন টাওয়ার) সন্ত্রাসী হামলার পর মার্কিন এই সংস্থাটি জিজ্ঞাসাবাদ ও আটক কর্মসূচি ভয়ানক রূপ নেয়। আর তারই কিছু কিছু প্রকাশিত মার্কিন সিনেট প্রতিবেদনে উঠে আসে। বন্দি নির্যাতনের ওই চিত্র কল্পনাকেও হার মানায়।