শেষ বিকেলে দারুণ এক জয়। ফিলিপ হিউজের মৃত্যু-শোক কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কের ফুরফুরে মেজাজেই থাকার কথা। কিন্তু ৪৮ রানের নাটকীয় এক জয় পাওয়ার পরও মাইকেল ক্লার্ক ঠিক স্বস্তিতে নেই। কারণটা ইনজুরি-জনিত। আর ইনজুরিটা এতোটাই মারাত্মক যে অবেলায় ক্যারিয়ারে শেষ হয়ে যেতে পারে ক্লার্কের। অ্যাডিলেড টেস্ট শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে অধিনায়ক নিজেই জানালেন ‘অভাবনীয়’ এই তথ্য।
অনেক দিন ধরেই চোটের সঙ্গে লড়ছেন মাইকেল ক্লার্ক। শুরুতেই নির্বাচকেরা তাকে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের ১২ সদস্যের দলে রেখেছিলেন। তবে শোনা গিয়েছিল, খেলার সম্ভাবনা তার নেই। কিন্তু ফিলিপ হিউজের মৃত্যুর পর সব বদলে গেল। আবেগের এই টেস্টে ক্লার্ক থাকতে চাইলেন। খেললেন চোট নিয়েই, ব্যথানাশক ইনজেকশনের সাহায্যে। করলেন সেঞ্চুরিও। অদম্য ক্লার্ককে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হলো চোটের কাছেই। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের বাকি টেস্টগুলো তো খেলা হবেই না, সংশয় তার ক্যারিয়ার নিয়েই!
ম্যাচ শেষে হতাশ কণ্ঠে এমনই ইঙ্গিত দিয়ে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক নিজে বলেছেন, ‘স্ক্যানে ভালো কোনো সংবাদ নেই। সেখানে স্পষ্ট চিড় দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা এটা দেখছে। আসলে বলতে পারছি না কত দিন আমাকে মাঠের বাইরে থাকতে হবে। বিশ্বকাপে আমাদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ মাত্র আট সপ্তাহ বাকি। ত্রিদেশীয় সিরিজে থাকতে পারলে ভালো লাগত। বেশি ভালো লাগত বিশ্বকাপে খেলতে পারলে। আমাকে অপেক্ষা করতে হবে। দেখি কী হয়।’
এর পরই সেই অনিশ্চয়তাসূচক মন্তব্য। নিজের ক্যারিয়ার নিয়েই শঙ্কা জানিয়ে তিনি বললেন, ‘সন্দেহ নেই, বিশ্বকাপ না খেলার শঙ্কা রয়েছে। এমনকি আমার আর কখনোই না খেলারও শঙ্কাও আছে। আশা করি এমনটা হবে না। তবে মাঠে ফিরতে সাধ্যের সর্বোচ্চ চেষ্টাই করব। তবে আমাকে বাস্তববাদিও হতে হবে।’
২০১২ সালের পর এ পর্যন্ত সাত-সাতবার ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছেন ক্লার্ক। এর মধ্যে এ বছরই চারবার! বেশির ভাগ সময় পিঠে ও হ্যামস্ট্রিং চোটে আক্রান্ত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক। এ টেস্টটাও খেললেন তীব্র ব্যথা নিয়ে। যদিও ক্লার্ক বলছেন, ‘এ ম্যাচটা খেলা নিযয়মে আমার কোনো অনুতাপ নেই। স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে (প্রথম ইনিংসে ৬০ রান করে) আমার মাঠে ফেরা নিয়েও অনুতাপ নেই। অনেক কৃতজ্ঞতা অ্যালেক্স কনটরিস (ফিজিও) ও চিকিত্সক পিটার ব্রুকনারকে। এ টেস্টে আমার মাঠে নামতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। এরপর কিছু রান করেছি। আমাকে বিশেষজ্ঞদের কথামতো চলতে হবে। আশা করি, এ গ্রীষ্মে আবারও খেলার সুযোগ পাব।’
ক্লার্কের চোটের কারণে দলে সুযোগ পেয়েছেন শন মার্শ। গতকাল শনিবার অ্যাডিলেড টেস্টের জয়ে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া।
