লিমায় শেষ মুহূর্তে সমঝোতা প্যারিস খসড়া অনুমোদন

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪, ২৩:৫১

বিশ্বের প্রায় দুইশ দেশের প্রতিনিধি অবশেষে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর রাজধানী লিমা থেকে কোনমতে মুখ রক্ষা করে নিজ দেশে ফিরতে পারছেন। ২০তম জলবায়ু সম্মেলনের শেষদিকে এসে আলোচনা ভেঙে যাবার উপক্রম হলেও শেষ মুহূর্তে তা নাটকীয় মোড় নেয়। বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশের মধ্যস্থতায় অবশেষে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন তারা। এজন্য সম্মেলনের সময়সীমা নির্ধারিত দিনের চেয়ে দুই দিন বাড়াতে হয়েছে।

তবে লিমায় যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে তাতে প্রত্যেক দেশকে আলাদা দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেসব দেশকে উন্নত দেশগুলো আগামী বছর থেকে আর্থিক সহায়তা দেবে- এমন কথাও চুক্তিতে বলা আছে। অবশ্য কি পরিমাণ অর্থ দেয়া হবে তা পরিষ্কার করে বলা হয়নি। তবে ২০১৫ সালের প্রথম তিনমাসের মধ্যে উন্নত দেশগুলো তাদের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ উল্লেখ করবে। জাতিসংঘের জলবায়ু শাখা আগামী বছরের নভেম্বরের মধ্যে কোন দেশ কি পরিমাণ অর্থিক সহায়তা দেবে তা একটি ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে জানাবে।
যেসব দেশের প্রতিনিধি জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন তাদের জানানো হয়েছে যে, লিমা সম্মেলনে যে ঘোষণাপত্র এসেছে তার আলোকে একটি চুক্তির খসড়া আগামী বছর প্যারিস সম্মেলনে তুলে ধরা হবে। তবে লিমার সমঝোতা চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন দেশ সন্তোষ প্রকাশ করলেও পরিবেশবাদী বিভিন্ন গ্রুপ এ চুক্তির সমালোচনা করেছে। পরিবেশবাদীদের মতে, এটি একটি দুর্বল চুক্তি। শক্তিধরদের কাছে গরীব দেশগুলো আত্মসমর্পণ করেছে বলেও তারা মত দিয়েছে। তারা যুক্তি দিয়ে বলেছে, এই চুক্তি বিভিন্ন দেশের জাতীয় জলবায়ু নীতিকে দুর্বল করে দেবে।
এদিকে, লিমায় একটি মুখ রক্ষা চুক্তি হলেও ধনী এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে মতের অমিল আরো স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলো আগামীতে কার্বন নিঃসরণ কি পরিমাণ কমাবে তা উল্লেখ না করায় স্বল্পোন্নত দেশগুলো হতাশ হয়েছে।
সম্মেলনে উপস্থিত একজন বিশ্লেষক ইত্তেফাককে বলেছেন, লিমায় যে ১৯৪টি দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দিয়েছিলেন তাদের দাবি ছিলো অনেক। সবাই সবকিছু পায়নি; কিন্তু সবাই কিছু না কিছু পেয়েছে।
লিমা সম্মেলন ১২ ডিসেম্বর শেষ হবার কথা থাকলেও দেশগুলোর মধ্যে নানা মত থাকায় তা শেষ করা যায়নি। এরপর সম্মেলনের সময়সীমা বাড়ানো হয়। ১২ ডিসেম্বর থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টা আলোচনার পর রবিবার সকালে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা হাসিমুখে বের হয়ে আসেন। সম্মেলনের সভাপতি পেরুর পরিবেশ মন্ত্রী ম্যানুয়েল পুলগার ভিডাল সাংবাদিকদের বলেন, যে খসড়াটি অনুমোদিত হয়েছে তা যথাযথ নয়; কিন্তু বিভিন্ন দেশের কথা এখানে অন্তর্ভুক্ত করা গেছে।
উল্লেখ্য, দুই দিন আগে সম্মেলনের পক্ষ থেকে চুক্তির যে খসড়া বের হয়েছিলো তা উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রত্যাখ্যান করলে আলোচনায় অচলাবস্থা দেখা দেয়। ওই খসড়ায় উন্নত দেশগুলো কার্বন নিঃসরণ কি পরিমাণ কমাবে তার সুনির্দিষ্ট উল্লেখ ছিলো না। তবে, কার্বন নিঃসরণের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনে যে ক্ষতি হচ্ছে তা পুষিয়ে নিতে অর্থ খরচ করার কথা বলা হয়েছিলো। এখন যে খসড়াটি বের হয়েছে তাতে বলা হয়েছে উন্নত দেশগুলো কার্বন নিঃসরণের ক্ষতি মোকাবেলায় সমন্বিত দায়িত্ব নেবে। তবে কার দায়িত্ব কতটুকু তা বলা হয়নি।

ভারতের পরিবেশমন্ত্রী প্রকাশ জাবেদেকার সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, আমরা যা চেয়েছি তা পেয়েছি। এখন উন্নত দেশগুলোকে দায়িত্ব নিতে হবে তারা কিভাবে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে পারে।  অপরদিকে লস এন্ড ড্যামেজ ফান্ডে অর্থায়ন করে বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমিয়ে আনতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে সহায়তা দেবে উন্নত দেশগুলো। উল্লেখ্য, গত ১ ডিসেম্বর লিমায় ২০তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন শুরু হয়। পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হাসেন মঞ্জু এ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।