রাজধানীর রায়েরবাগে সালেমা হাসপাতাল এন্ড ল্যাব নামে একটি অবৈধ হাসপাতালে গতকাল রবিবার অভিযান চালিয়েছে র্যাবের তত্ত্বাবধানে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই হাসপাতালের পুরোটাই ভুয়া। নেই হাসপাতালের অনুমতি। চিকিত্সক ও নার্সদের নামে যারা আছেন তারাও ভুয়া। আদালত হাসপাতালের মালিক ভুয়া ডাক্তার দম্পতিসহ চারজনকে তাত্ক্ষণিকভাবে দণ্ড দেন। এর মধ্যে এসএম রবিউল আউয়ালের ২ বছর কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা, জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাস কারাদণ্ড, তার স্ত্রী মমতাজ বেগমের ২ বছর কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা, জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাস কারাদণ্ড, সোনিয়া আক্তারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাস কারাদণ্ড এবং লুত্ফুন নাহারের ১ লাখ টাকা জরিমানা ও জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাস কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আনোয়ার পাশা। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের কোন লাইসেন্স নাই। প্রতিষ্ঠানের মালিক এসএম রবিউল আউয়াল (৪৩) এবং তার স্ত্রী মমতাজ বেগম (৩৬) ডাক্তার সেজে রোগীদের চিকিত্সা দিচ্ছিলেন। এখানকার সকল নার্স ও টেকনিশিয়ান ভুয়া। পরীক্ষার রিপোর্টে ডাক্তারের সীল মেরে নিজেরাই স্বাক্ষর করছিলেন। অভিযানের সময় দেখা যায় ভুয়া ডাক্তার রবিউল তার চেম্বারে সিজারের রোগী হোসেনে আরার পেটের ড্রেসিং করছিলেন। হোসনে আরার স্বামী খোরশেদ আলম জানান, গত ৬ ডিসেম্বর এই হাসপাতালে তার স্ত্রীর সিজার হয়। রবিবার তারা সেলাই কাটতে এসেছেন।
রবিউল এ সময় হোসনে আরার চিকিত্সা করছিলেন। হোসনে আরার পেটে বর্তমানে ইনফেকশন হয়ে গেছে। খোরশেদ আলম আরো জানান, তারা মাতুয়াইল শিশু হাসপাতালে চিকিত্সার উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। সেখান থেকে দালালরা তাকে এই ভুয়া হাসপাতালে নিয়ে আসে। পারভেজ হোসেন দিপু (১৬) নামে এক রোগীর হাতে ব্যথা নিয়ে এ হাসপাতালে আসলে ভুয়া চিকিত্সক রবিউল এবং তার সঙ্গীরা তার চিকিত্সা করে হাতে ব্যান্ডেজ ও প্লাস্টার করে দেন। এছাড়া অভিযানের সময় আকলিমা বেগম, নূর নাহার রুপা, জেসমিন আক্তার এবং ফাতেমা বেগমসহ আরো ১০ জন রোগী ছিলেন। যাদের অধিকাংশই সন্তান সম্ভবা। এই হাসপাতালে ২৭টি বেড রয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রতিটি শিফটে ৩ জন ডাক্তার এবং ৬ জন নার্স সার্বক্ষণিক থাকা বাধ্যতামূলক হলেও রবিউল ও তার স্ত্রী মমতাজ সার্বক্ষণিক ডাক্তারের কাজ করেন। তারা ডাক্তারি বিষয় কখনোই পড়াশোনা করেন নাই বলে জানান। তার স্ত্রী অন্য হাসপাতালে নার্স এর কাজ শিখেছেন বলে দাবি করেন। এ সময় সোনিয়া আক্তার (২২) নামে একজন নার্স কাজ করেছিলেন যার কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই।
এছাড়া লুত্ফুন নাহার (২৮) তাদের সহযোগী হিসেবে প্রতারণা করেছিল। র্যাব-১০ এর অভিযান পরিচালনা করেন মেজর তৌফিকুল বারী। তিনি জানান, এই এলাকায় যেসব অবৈধ হাসপাতাল রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ডাক্তার স্বপন কুমার তপাদার এসময় উপস্থিত ছিলেন।
