ছাত্র পেটানোয় স্কুল প্রাঙ্গনে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৬:৫৭

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় অষ্টমণিষা ইউনিয়নের রূপসী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র পেটানোর ঘটনায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার এলাকাবাসীর পাশাপাশি ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভে অংশ নেয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। খবর পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। 

জানা গেছে, এলাকাবাসী সাত দফা দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ছাত্র নির্যাতনের সঠিক বিচার ছাড়াও পরবর্তীতেও কোন ছাত্রকে শারীরিক নির্যাতন করা যাবে না বলে দাবি করেন। এছাড়াও সরকারের বিধি মোতাবেক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হবে, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি তৈরির ক্ষেত্রে বহিরাগত ছাত্র ও তাদের অভিভাবকের ভোট বা মতামত গ্রহন করা যাবে না, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনে শিক্ষিত ও সুশীল সমাজের সদস্যদের প্রাধান্য দিতে হবে বলে দাবি করে বিক্ষোভরত এলাকাবাসী।

বিক্ষোভরত এলাকাবাসীরা জানান,  নির্যাতিত ছাত্র ইকলাসকে নির্যাতনের বিচার না হ্ওয়া র্পযন্ত কোনো অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাবে না।

বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রকে মারার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সাইদুল ইসলাম জানান, 'ইকলাস এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। সোমবার তার ব্যবহারিক পরীক্ষা ছিল। কিন্তু সে বহিরাগত ছাত্রদের বিদ্যালয়ে এনে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে। এজন্য একজন শিক্ষক তাকে প্রহার করেন। এর প্রতিবাদে ইকলাস তার সঙ্গীদের নিয়ে ঐ শিক্ষকের উপর চড়াও হয় এবং তাকে মারপিট করে'।

তবে প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ অস্বীকার করে ভাঙ্গুড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেডে চিকিৎসারত আহত ইকলাস বলেন, 'আমি পরীক্ষার খাতা স্বাক্ষর করাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু খাতা স্বাক্ষরের জন্য দাবিকৃত টাকা দিতে আস্বীকার করায় আমাকে রাসেদুল ও সাঈদ স্যার মিথ্যা অপবাদে নির্যাতন করে গুরুতর আহত করেন। আমার কোন অপরাধ ছিল না'।

ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাসুদ রানা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, 'ছাত্র-শিক্ষক দুইজনই বেপরোয়া ভাবে গন্ডগোল করেছেন। এটাকে ইস্যু করে একটি পক্ষ আইন শৃংখলা ভঙ্গের চেষ্টা করলে পুলিশ তা প্রতিহত করে'।

আরও পড়ুন:  কোটি টাকার লোকসানে দুবলারচরের শুঁটকি পল্লী

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল আলম বলেন, 'আমি বিষয়টি তদন্তের জন্য মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। কিন্তু গ্রামের কতিপয় ব্যক্তির হুর-হাঙ্গামার কারণে ফিরে এসেছি'। এদিকে ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় এখনও ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি