ভালুকায় পরিবারের চার জনকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪, ০১:১৯

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের লবণকোটা গ্রামে দুর্বৃত্তরা একই পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। নিহতরা হলেনঃ হবিরবাড়ী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, তার স্ত্রী পারুল আক্তার, দুই শিশুকন্যা জিনিয়া ও রিমা। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার গভীর রাতে। ভালুকা মডেল থানা পুলিশ নিহত চার জনের লাশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতে একদল দুর্বৃত্ত  হবিরবাড়ী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর (৩৫) ঘরে  ঢুকে তার স্ত্রী পারুল আক্তারকে (২৮) হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় তার মেয়ে জিনিয়া আক্তার (৬) ও রিমা আক্তারকে (২) মুখ-হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির উঠানে রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে ধারালো  অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ভালুকা থানার এএসআই সেলিম আহাম্মেদ জানান, এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দিলে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ঘটনাস্থলে তাদের লাশ উদ্ধার করে। নিহত বাচ্চু হবিরবাড়ী লবণকোঠা গ্রামের ওয়াহেদ আলীর পুত্র। পুলিশের ধারণা পারুল আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হত্যার কারণ জানা যায়নি। দুর্বৃত্তরা রাতের কোন একসময় ঘরের ভিতর মা ও দুই শিশু কন্যা এবং বাড়ির সামনে বাসের ভিতর রফিকুলকে হত্যা করে ফেলে রাখে। ঘটনার পর বাড়ির সামনে শত শত নারী-পুরুষ ভিড় জমায়। নিষ্পাপ দুই শিশু ও বাবা-মার নির্মম হত্যাকাণ্ডে এলাকার মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নামে। রফিকুলের মা ও স্বজনদের  আহাজারিতে এলাকার সব মানুষের চোখে-মুখে বেদনার ছাপ ফুটে ওঠে। নিহত রফিকুলের পিতা ওয়ারেছ আলী জানান, তিন বছর পূর্বে তার ছেলে জমি কিনে এই জায়গায় হাফ বিল্ডিং বাড়ি করে বসবাস করছে। কিছুদিন আগে সে একটি বাস কিনেছে, যা সে নিজেই চালাতো। কারা কেন তার ছেলে, দুই নাতনি ও ছেলের বউকে খুন করেছে তিনি কিছুই বলতে পারছেন না।

ভালুকা মডেল থানার ওসি ছরোয়ার হোসেন জানান, রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ও তার স্ত্রী পারুলের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও দুই মেয়ের মুখে কাপড় বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ জানা যায়নি। তদন্ত চলছে। কেউ গ্রেফতার হয়নি। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মঈনুল হক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল-মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশের মতে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কারণ জানতে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা হয়নি।