ড্রোন দিয়ে বহুতল ভবনে হামলার লক্ষ্য ছিল

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৯:৪৭
 
রাজধানীতে উগ্রবাদী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুই সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন তানজিল হোসেন বাবু (২৬) ও গোলাম মাওলা মোহন (২৫)। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক হোসেন সড়ক থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় কোয়াড হেলিকপ্টার বা ড্রোন তৈরির সরঞ্জামাদি, বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস ও উগ্রমতবাদ সম্বলিত কিছু পুস্তিকা। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হয়েছে।  তারা বহুতল ভবনে হামলার সক্ষমতা অর্জন করতে ড্রোন তৈরি করছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা  আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সক্রিয় সদস্য। তারা রাজধানীতে নাশকতায় ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিল।
বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান যুগ্ম কমিশনার  (গোয়েন্দা) মনিরুল ইসলাম। যুক্তরাষ্ট্রের  সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে গত কয়েক বছর ধরে মনুষ্যবিহীন  এই ক্ষুদে উড়োজাহাজ ব্যবহারের ফলে ড্রোন নামটি এখন বিশ্বব্যাপী পরিচিত।
অভিযান পরিচালনাকারী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, তারা ড্রোন কিংবা কোয়াড হেলিকপ্টার তৈরি করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি তুলে সেসব স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করছিল। তারা ২৫/৩০ তলা কোন বিল্ডিং-এ হামলা করার সক্ষমতা সম্পন্ন কোয়াড হেলিকপ্টার বা ড্রোন তৈরির কাজ করে যাচ্ছিল।
তিনি আরো জানান, এ সব যানে (ড্রোন) সংবেদনশীল ক্যামেরা থাকে, যার মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থানের জানান না দিয়েই শত্রুর ওপর নজরদারি করা যায়। আফগানিস্তানের যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কাজেও যুক্তরাষ্ট্র ড্রোন ব্যবহার করেছে।গোয়েন্দাগিরি ছাড়াও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, উদ্ধার অভিযানসহ বিভিন্ন কাজে এখন ড্রোন ব্যবহার করা হয়। 
মনুষ্যবিহীন বিমান নিয়ে বিশ্বব্যাপী গবেষণার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্সাহী তরুণরা ক্যামেরা বহনে সক্ষম ছোট আকৃতির দূর নিয়ন্ত্রিত বিমান তৈরি করেছে।  
তবে বাংলাদেশের কোনো জঙ্গি সংগঠনের হাতে এ ধরনের প্রযুক্তি থাকার কথা এর আগে শোনা যায়নি।
আনসারুল্লাহ বাংলা টিসের নাম প্রথম আলোচনায় আসে গত বছরের শেষ দিকে। গত বছর আগস্টে বরগুনা থেকে এ সংগঠনের প্রধান মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানীসহ ৩১ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরদিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জসিমের বাসা ও অফিসে অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ উদ্ধার করে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, সিডিসহ উস্কানিমূলক বই। ঐ সময় পুলিশ জানিয়েছিল, জিহাদের মাধ্যমে সরকার হঠানোর লক্ষ্যে আনসারুল্লাহ বাংলাটিম থানা থেকে অস্ত্র লুট ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করেছিল।
গত বছরের ১৬ সেপ্টম্বর মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানীসহ বাংলাটিমের ১০ সদস্যের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।