প্রকল্পের নাম ছিল ‘লুনার ভিআর’ যা একটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অ্যাপ। নাসা প্রদত্ত বিভিন্ন ডাটা ব্যবহার করে এই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। অ্যাপটির মাধ্যমে নাসা আপোলো ১১ মিশন এর ল্যান্ডিং এরিয়া ভ্রমণ, চাঁদ থেকে সূর্যগ্রহণ দেখা এবং চাঁদকে একটি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ভার্চুয়ালভাবে আবর্তন করা যাবে। গত অক্টোবরে বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে এ প্রতিযোগিতার আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। যার ফাইনাল ঘোষণা করা হয় শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টায়।
টিম অলিক: টিম অলিকের সদস্যরা হলেন জিইই বিভাগের ২০১৩-২০১৪ সেশনের শিক্ষার্থী আবু সাবিক মাহদী, জিইই বিভাগের ২০১৩-২০১৪ সেশনের শিক্ষার্থী,কাজী মঈনুল ইসলাম, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-২০১৪ সেশনের এস এম রাফি আদনান, জিইই বিভাগের ২০১৫ -২০১৬ সেশনের শিক্ষার্থী সাব্বির হাসান। আর টিম মেন্টর হিসেবে ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী।
নঁওগা জেলার কোমায়গাড়ির ছেলে আবু সাবিক মাহদী নটরডেম কলেজ, বগুড়া জেলার নেপালতলীর ছেলে কাজী মঈনুল ইসলাম বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ, সাতক্ষীরা জেলার কোমরপুরের ছেলে এস এম রাফি আদনান ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ, জামালপুর জেলার ভোকেশনাল মোড়ের ছেলে সাব্বির হাসান জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
যেভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়া: নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ বিশ্বের সবচেয়ে বড় হ্যাকাথন। এটার সম্পর্কে জানার পর থেকেই আমরা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে আগ্রহী হই। আমরা ২০১৬ সালে প্রথম Space apps challenge-এ গিয়েছিলাম। ২০১৭ সাল থেকে আমরা VR নিয়ে কাজ শুরু করি। আমরা জানতে পারি এই প্রতিযোগিতায় VR নিয়েই একটা সমস্যার সমাধান করতে বলেছে। তখন আমরা লুনার VR-এর আইডিয়াটি নিয়ে কাজ করা শুরু করি। নাসার এই হ্যাকাথনে সমস্যাগুলো আগে থেকেই উল্লেখ করা থাকে।
২০১৯ সালের প্রতিযোগিতায় নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ অরগানাইজিং টিম এবং বেসিক এর উদ্যোগে প্রায় ২ হাজারেরও বেশি প্রকল্পের মধ্যে ৪০ টি আঞ্চলিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। সেখান থেকে ৮টি প্রকল্পকে বেছে নেয়া হয়। যেখানে নাসা স্পেস এ্যাপস চ্যালেঞ্জের ফাইনাল প্রতিযোগিতায় মোট ছয়টি ক্যাটাগরির মধ্যে বেস্ট ইউজ অফ ডেটা ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয় শাবির ‘টিম অলিক’।
ভবিষ্যত্ স্বপ্ন: তার টিমের পরবর্তী লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, গেম এবং ভিস্যুয়াল ইন্টারএক্টিভ নিয়ে ভবিষ্যতে আমাদের কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শাবি ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ অর্জন নিঃসন্দেহ অনেক বেশি গৌরবের। ‘টিম অলিকে’র এ অর্জন প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখবে। যারা এ ধরনের কাজে আগ্রহী তাদের সবধরনের সাহায্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে করা হবে।
