১৫ বছরের দাউদ ইব্রাহিম পড়ে নবম শ্রেনীতে। ঘুম থেকে ওঠার জন্য রাতে ঘড়িতে এলার্ম দিয়ে রেখেছিলো। কিন্তু আগের রাতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার কারণে ঘুম থেকে উঠতে পারেনি দাউদ। এলার্ম বেজে বেজে এক সময় বন্ধ হয়ে গেছে। স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। আর স্কুলে যেতে না পারাই যেন তার জন্য আশীর্বাদে পরিণত হলো। প্রাণে বেঁচে গেলো দাউদ। গত মঙ্গলবার পেশোয়ারের স্কুলে ঐ নারকীয় হামলায় মারা গেছে তার সব সহপাঠী। নবম শ্রেনীর একমাত্র দাউদই জীবিত আছে। বন্ধুদের হারিয়ে এখন একপ্রকার নির্বাক দাউদ। খবর ডনের।
সারাদিন শুধু বন্ধুদের জানাজায় অংশ নিয়েছে দাউদ। তার বড় ভাই সাফিয়ান ইব্রাহিম পাকিস্তানের দ্যা এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে বলেন, খুব কাছের ছয় জন বন্ধুর জানাজায় অংশ নিয়েছে দাউদ। জানাজায় গেলেও কারো সাথে কোন কথা বলেনি সে। শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে সে। তার ভাই জানায়, দাউদ জুডোয় পারদর্শী। তাছাড়া বেশ চটপটে স্বভাবের হলেও বন্ধুদের জানাজায় গিয়ে কোনরকম আবেগও প্রকাশ করেনি। পেশোয়ারের ঐ স্কুলে ১৩২ জন শিক্ষার্থীসহ নিহত হয়েছে ১৪৪ জন। তেহরিক-ই তালেবানের একজন মুখপাত্র হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বলেছে, স্কুলের অপেক্ষাকৃত বেশি বয়সের শিক্ষার্থীদের হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তারা।
