উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা,
জীবিকা, সম্পদ, রাজনৈতিক ক্ষমতা, পরিবার ও সমাজে অবস্থানরত ক্ষেত্রগুলোতে বাংলাদেশের নারীরা এখনো পুরুষের তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে আছেন। নারী-পুরুষের সমান সুযোগ, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এখনো গোড়ার সমস্যা। নারীদের এমন সমস্যাগুলো নিয়ে কি ভাবছেন তারা। এ নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন— মোহাম্মদ
ওমর ফারুক
সারমিন আহসান
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত যে চারটি দশক আমরা পেরিয়ে চলছি তাতে নারীকে উদ্যোক্তা হিসেবে দেখার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা কেবলমাত্র সরকারি ছাড়াও নারীবাদী সংগঠনসহ সুশীল সমাজের অবদান অনেকাংশে উল্লেখযোগ্য বলে প্রতীয়মান হয়। এই সময়টাতে বাংলাদেশের সার্বিক সমাজ ব্যবস্থায় যে রূপান্তর ঘটেছে তাতে নারীর অবস্থান অনেকাংশে সবার ওপরে থাকলেও এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। যার প্রভাবগুলো অনেকাংশে প্রকাশ্যে বা কোনো সময় ছদ্মবেশে সমাজে উপস্থিত যেমন নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌতুকপ্রথা, বৈষম্য সকল ক্ষেত্রে যেমন মজুরির, সেবা গ্রহণের প্রবেশাধিকার, প্রতিকূল দৃষ্টিভঙ্গি যা শহর বা গ্রাম, শিক্ষিত বা অশিক্ষিত, অগ্রসর বা অনগ্রসর সমাজ সকলের বেলায় সমভাবে প্রযোজ্য। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
তানজিলা খান মৌলি
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মধ্য ও নিম্ন আয়ের নারীদের জন্য পেশায় প্রবেশ এবং উদ্যোক্তার ভূমিকা নেওয়াটা জরুরি। কিন্তু তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর একটি কারণ ভীতি। আরেকটি হলো অন্যায্য পরিবেশ, যেখানে সুশাসনের অভাব এবং পেশিশক্তির প্রভাব আছে। কাজে প্রবেশের আগেই এসব বাধার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয় নারীকে। কর্মক্ষেত্রে পরিবেশের সমস্যা তো আছেই। নারীদের রাজনৈতিক নেতৃত্বে না যেতে পারার পেছনেও একই ধারার কারণ আছে। ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়েছিল। গত বছর সংরক্ষণের মেয়াদ আরও ২৫ বছর বাড়ানো হয়। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যতগুলো চ্যালেঞ্জ এসেছে তার মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে সরকারিভাবে স্বীকৃত এ দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সম্প্র্রদায়ভুক্ত যাদেরকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। নারী কতগুলো আদর্শগুণে গুণান্বিতা যার ফলে সে কখনো হয়ে ওঠে মা কখনো বা মমতাময়ী ভগিনী আবার আনন্দময়ী নন্দিনী ও সুখ-দুঃখের হতভাগিনী সহধর্মিণী। এই যে বহুরূপে নারীর বিচরণ তাকে যদি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে প্রতিস্থাপন করা যায় তাহলে উন্নয়ন যে অসম্ভব নয় তা এরই মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।
ডা. শারমিনা রহমান চৌধুরী
প্রাক্তন শিক্ষার্থী,
উদয়ন ডেন্টাল কলেজ, রাজশাহী
মেয়েদের স্কুল থেকে ঝরে পড়া এখনো কমেনি। ভয়ভীতি উপেক্ষা করে মেয়েরা যেন কলেজ বা উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রে যেতে পারে সেই পরিবেশ তৈরি জরুরি। শিক্ষা ব্যয় বহন করতে অক্ষমদের সহায়তা করা। কারিগরি ও বিজ্ঞানশিক্ষায় মেয়েদের আরও উত্সাহিত করতে হবে। আর প্রত্যন্ত এলাকার মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নারীরা রাজনীতিতেও এগিয়ে যাচ্ছে। তবে একমাত্র পারিবারিক পরিচিতির মাধ্যমেই নারীরা রাজনীতিতে সাফল্য লাভ করতে পারছেন বা সংসদে নির্বাচিত হতে পারছেন। যে নারীর পেছনে শক্তিশালী পরিবার নেই, তিনি রাজনীতিতে ঢুকবেন কীভাবে?
