কৈশোর পেরোনোর আগেই মিলিয়নিয়ার

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪১

ওরা

এখনো তো উদ্যোক্তা হওয়ার বয়সই হয়নি! মাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি, শেষ হোক তারপর না হয় ধীরে সুস্থে উদ্যোক্তা হওয়ার কথা ভাবা যাবে। বেশিরভাগ তরুণই এ ধরনের চিন্তা করে থাকেন। আপনিও কি এমনটাই ভেবে বসে আছেন? যদি তাই হয় তাহলে কিন্তু সত্যিই ভুল ভাবছেন। এমন বেশ কয়েক জন উদ্যোক্তা আছেন, যারা আপনার এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে ফেলেছেন। চলুন জেনে আসা যাক এমন কয়েকজন উদ্যোক্তার কথা, যারা প্রত্যেকে কৈশোর পেরোনোর আগেই মিলিয়নিয়ার হয়েছিলেন!

 

ফ্রেসার ডোহার্তে

১৯৮৮ সালে ফ্রেসার ডোহার্তের জন্ম। মাত্র ১৪ বছর বয়সে দাদির কাছ থেকে জ্যাম বানানো শেখেন তিনি। জ্যাম বানিয়ে বাড়ির আশপাশে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা শুরু করেন ফ্রেসার। ১৬ বছর বয়সে প্রতিষ্ঠা করেন ‘সুপার জ্যাম’। ২০১১ সাল নাগাদ প্রায় ১২ লক্ষ মার্কিন ডলার মূল্যের জ্যাম বিক্রি করে তার প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে সমগ্র ইউরোপ জুড়ে হাজারো ফুড স্টোরে শোভা পায় সুপার জ্যামের কৌটো। বর্তমানে ফ্রেসার ডোহার্তের মোট সম্পদের পরিমাণ ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার।

 

ক্যামেরন জনসন

ক্যামেরন জনসনের জন্ম ১৯৮৫ সালে। মাত্র ৯ বছর বয়সে ইনভাইটেশন কার্ড বিক্রি করার মাধ্যমে জনসন তার ব্যবসা শুরু করেন। লাভের টাকা দিয়ে ১১ বছর বয়সে প্রতিষ্ঠা করেন Cheers and Tears। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একে একে বিভিন্ন ব্যবসা শুরু করেন । মাত্র ১৫ বছর বয়সেই জনসন একটি টোকিও ভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। সে সময় থেকেই তিনি মাসিক প্রায় চার লক্ষ ডলার করে উপার্জন করতে শুরু করেন। বর্তমানে জনসনের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩২ লক্ষ মার্কিন ডলার।

 

জুলিয়েট ব্রিন্ডাক

কৈশোরে পা রাখা মেয়েদের জন্য একটি আলাদা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দরকার অনুভব করে ১৬ বছর বয়সী জুলিয়েট ব্রিন্ডাক খুলে ফেললেন তার ওয়েবসাইট মিস ও অ্যান্ড ফ্রেন্ডস। কিশোর বয়সী মেয়েদের একে অন্যের সাহায্য নেওয়া অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠল মিস ও অ্যান্ড ফ্রেন্ডস। বিজ্ঞাপনসহ নানা খাত থেকে আয় হতে লাগল। ২০১১ সালে জুলিয়েটের ওয়েবসাইট বিশ্বের বৃহত্তম ওয়েব সাইটেগুলোর তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে আসে। বর্তমানে জুলিয়েট ব্রিন্ডাকের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

 

ফারাহ গ্রে

ছেলেটার নাম ফারাহ খান খালিদ মোহাম্মদ। মাত্র ৬ বছর বয়সে দরজায় দরজায় ঘুরে লোশন বিক্রি করা ছেলেটাই মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে মিলিয়নিয়ার হয়ে যায়,  ১৩ বছর বয়সে ১৯৯৭ সালে ফারাহ গ্রে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ফার-আউট ফুডস’। এই প্রতিষ্ঠানটিই ফারাহর ভাগ্য বদলে দেয়। ব্যবসা সম্প্রসারণ, ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ, সবই হয়েছে মাত্র ১৪ বছর বয়সে মিলিয়নিয়ার বনে যাওয়া এই ব্যক্তির।

 

অ্যাশলি কোয়ালস

১৯৯০ সালে জন্ম নেওয়া মার্কিন তরুণী অ্যাশলি কোয়ালস মাত্র ১৭ বছর বয়সেই মিলিয়নিয়ার হয়ে যান। ২০০৪ সালে মায়ের কাছে ৮ ডলার ধার নিয়ে অ্যাশলি whateverlife.com ওয়েবসাইটটি প্রতিষ্ঠা করেন। ওয়েবসাইটটিতে বিনামূল্যে My space লে-আউট এবং এইচটিএমএল টিউটোরিয়াল প্রকাশ করা হতে থাকে। কিছুদিনের মধ্যেই ওয়েবসাইটটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কয়েক মাসের মধ্যেই ৭০ হাজার ডলার উপার্জন করতে সক্ষম হন অ্যাশলি। ২০০৭ সালের মধ্যেই অ্যাশলি মিলিয়নিয়ার হয়ে যান। সে সময় প্রতি মাসে তার ওয়েবসাইটে ভিজিটর সংখ্যা ছিল ৭০ লক্ষেরও বেশি! বর্তমানে অ্যাশলি কোয়ালসের মোট সম্পদের পরিমাণ ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।