লাখো শহীদের রক্তস্নাত এই দেশ। পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ-নিপীড়ন ও দুঃশাসনের কুহেলিকা ভেদ করে একাত্তরের এই মাসে বিজয়ের প্রভাতী সূর্যের আলোয় ঝিকিমিকি করে উঠেছিল বাংলাদেশের শিশির ভেজা মাটি। অবসান হয়েছিল পাকিস্তানি শোষণ-বঞ্চনা আর নির্যাতনের কালো অধ্যায়ের। আগামী দিনের শিশুরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বেড়ে উঠবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
শুক্রবার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব কথা বলেন। শিশু একাডেমী মিলনায়তনে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল-ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর পরিচালক মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর চেয়ারম্যান কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শতাধিক শিশু অংশগ্রহণ করে। চিত্রাংকন, পুরস্কার বিতরণ ও একাডেমীসহ বিভিন্ন শিশু সংগঠনের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক আলোচনা দিয়ে সাজানো হয়েছিল বর্ণিল এই মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী গত ১ ডিসেম্বর সকালে একাডেমী প্রাঙ্গণ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত জাতীয় পতাকা নিয়ে আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানমালা। এরপর ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় শিশুদের কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। এ ছাড়া, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে একাডেমী প্রাঙ্গণ থেকে সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর পরিচালক মোশাররফ হোসেন শিশুদের নিয়ে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। একই দিন দুপুর ১২টায় একাডেমীর গ্রন্থ ভবনের লেকচার থিয়েটার হলে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিনে অনুষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের গান এবং অভিভাবকদেরসহ শিশুদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।
