ইতিহাস বিকৃতি রোধের জন্য জামার্নির মতো হলোকাস্ট আইন করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরী। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত ‘গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ইতিহাস বিকৃতি চরমতম অপরাধ উল্লেখ্য করে আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘এই বিকৃতি রোধের জন্য জামার্নির মতো হলোকাস্ট আইন করতে হবে। আর ওই আইনের মাধ্যমে ইতিহাস বিকৃতকারীদের বিচার করতে পারলে তারকের মতো আর কেউ ইতিহাস বিকৃতি করে বক্তব্য দেয়ার সাহস করবে না।’
গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘যখনই কোনো জাতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র হয়েছে, তখনই ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে। সিরাজউদ্দৌলার মৃত্যুর পর ইংরেজরা ইতিহাস বিকৃত করে ২০০ বই লিখেছিলেন। বাঙালিকে ১৫০ বছর এই মিথ্যাচার হজম করতে হয়েছে।’
এই প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনিরা বুঝেছিলেন যে, একজন মানুষকে হত্যা করা যায় কিন্তু তার আদর্শকে হত্যা করা যায় না। যে কারণে তারা ইতিহাস বিকৃত করা শুরু করল এবং বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে মিত্যাচার করা শুরু করল। বেগম জিয়া, তারেক রহমান ও জামাতের স্কলাররা এখন সে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।’
আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘ইতিহাস বিকৃত কেবল জামায়াত করছে না, সুশীল সমাজও করছে। ড. কামাল বলেন দেশে গণতন্ত্র নেই। আমি ড. কামালের গণতন্ত্র চাই না, শেখ হাসিনার গণতন্ত্র চাই। এই কথা বলার কারণে অনেকেই হয়তো আমাকে হাসিনার দালাল বলবে কিন্তু আমি তাদেরকে বলতে চাই— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দালাল হওয়ার চেয়ে শেখ হাসিনার দালাল হওয়া ভালো।’
পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি বিচারপতি এ এফ এম মেজবাহউদ্দীনের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, প্রজন্ম ’৭১-এর সংগঠক নুজহাত চৌধুরী শম্পা, বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর রিসার্চ এর মহাসচিব মোনায়েম সরকার, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের মহাসচিব উত্তম বড়ুয়া, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সভাপতি হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
আলোচনা সভায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান।
