স্বাস্থ্যসেবার ব্যায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: স্পিকার

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪, ২১:৫৫
 
 
 
 
‘স্বাস্থ্যসেবার ব্যায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’ উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যসোসিয়েশনের (সিপিএ) চেয়ারম্যান ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, ‘এই ব্যায় বহনে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।’ অপর দিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘সরকার বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বন্ধ করতে চায় না। চায় মানসম্পন্ন মেডিকেল কলেজ।’ শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতাল কর্তৃক আয়োজিত পঞ্চম আন্তর্জাতিক কার্ডিওলজি ও কার্ডিয়াক সার্জারি ও তৃতীয় ঢাকা লাইভ সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তারা এ সব কথা বলেন। ল্যাব এইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ এম শামীমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন প্রধান অতিথি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এবং সম্মানিত অতিথি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহেদ মালেক। 
স্পিকার বলেন, ‘গত এক দশকে আমাদের দেশের স্বাস্থ্যখাত অনেক এগিয়ে গেছে। আর এই এগিয়ে যাওয়ার ধারা অব্যাহত রাখতে আমাদের সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বর্তমানে প্রযুক্তি চিকিত্সা সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রোগীর নিবন্ধন, তথ্য সংগ্রহ, রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। স্বাস্থ্য সেবায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য সেবায় আরও বেশি প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে চাই।’  
তিনি বলেন, ‘হূদরোগ বিশ্বের অন্যতম প্রধান একটি রোগ। জাতীয় হূদরোগ ফাউন্ডেশনের এক সমীক্ষায় জানা যায় ৪০ হাজার মানুষের হূদরোগ সেরে ওঠার মতো এবং প্রতিরোধ করার মতো। হূদরোগীর সংখ্যা বাড়ার কারণে দক্ষিণ-এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এটি একটি হুমকি হয়ে দাড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তোলা হলে হূদরোগজনিত রোগ গুলো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সব সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, সিনিয়র শিক্ষক, বিএমএসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে মেডিকেল কলেজের ভর্তির ক্ষেত্রে ৪০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়। তাই মান সম্পন্ন মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থা ধরে রাখতে এর থেকে এক চুলও নড়ব না।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘৬টি বিভাগীয় জেলা শহরের হাসপাতালে কার্ডিয়াক সেন্টার স্থাপন করা হবে। অনেক সময় হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিত্সা না পেয়ে অনেকেই মারা যান। বরিশালের জনপ্রিয় মেয়র শওকত হোসেন হিরণের কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে চিকিত্সা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করেন।’
বেসরকারী উদ্যোক্তাদের সেবার ব্যয় কমানোর আহ্বান জানিয়ে নাসিম বলেন, ‘আপনাদের চিকিত্সা চার্জ একটু কমান। অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ ল্যাবএইডের নাম শুনে ছুটে আসে। একটু যুক্তিসংগত দাম রাখলে রোগীরা উপকৃত হবে। ভালো হোটেল করার বদলে হাসপাতাল গড়ে তোলেন। জনগণ উপকৃত হবে। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে চাই।’
ল্যাবএইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ এম শামীমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথির হাতে ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়।  
এর আগে সকাল ৯টা থেকে অনুষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। মোট পাঁচটি প্ল্যানারি সেশনে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। এই পাঁচটি প্ল্যানারি সেশনে অংশ নেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান বিভিন্ন কার্ডিওলজিস্ট ও কার্ডিও সার্জনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ২৭ জন খ্যাতিমান কার্ডিওলজিস্ট ও কার্ডিও সার্জন। অনুষ্ঠানে তারা তাদের বিভিন্ন সায়েন্টিফিক চিকিত্সা পদ্ধতিগুলোর প্রদর্শন করেন। তিন দিন ব্যাপী এই সম্মেলন শনিবার শেষ হবে।