সম্মিলিত কণ্ঠে শোকসঙ্গীত, দোয়া ও মোমবাতি প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে পেশোয়ারের স্কুলে জঙ্গিদের বর্বরোচিত হামলায় নিহত শিশুদের স্মরণ করল ঢাকাস্থ পাকিস্তানি হাইকমিশন। শুক্রবার সন্ধ্যায় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে এই শোক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশে বসবাসরত পাকিস্তানি কমিউনিটির সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও হাইকমিশনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
হাইকমিশনের আঙ্গিনায় সম্মিলিত কণ্ঠে শোক সঙ্গীতের মাধ্যমে নিহত শিশুদের স্মরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর পর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, এক মিনিট নীরবতা পালনের পর জ্বালানো হয় মোমবাতি। সবশেষে নিহত শিশুদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার আহমেদ হুসাইন দাও বলেন, ‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এ লড়াইয়ে পাকিস্তান অবশ্যই জয়ী হবে। পাকিস্তান আশা করে, বিশ্বের সব জাতি একত্রিত হয়ে এই জঙ্গিবাদের মোকাবিলা করবে। এখন সময় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শক্তি সঞ্চয়ের। এটি একটি সাময়িক সঙ্কট। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী নিয়ে আমরা গর্বিত। তারা দেশের জন্য শহীদ হওয়ার লক্ষ্যে লড়াই করে। তারা এই সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করবে।’
নিহত শিশুদের স্মরণে গত বুধবার পাকিস্তান হাইকমিশনে একটি শোকবই খোলা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করে ওই ঘটনায় তাদের সমবেদনা প্রকাশ করেন।
গত মঙ্গলবার পাকিস্তানি তালেবান বন্দুকধারীরা পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলে হামলা চালিয়ে ১৩২ শিশুসহ ১৪৮ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। দেশটিতে এটা সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা। ওই ঘটনায় শোকাহত পুরো পাকিস্তান। দেশটিতে তিন দিনের জাতীয় শোক পালন করা হয়েছে। এ ছাড়া, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত পাকিস্তানি কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও পালন করা হচ্ছে শোক।
