ভুল প্রমাণ করতে পারলে বক্তব্য শুধরে নিব: তারেক রহমান

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১১:৩৩

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারপার্সন তারেক রহমান দাবি করেছেন, সাম্প্রতিককালে দেয়া তার  বক্তব্য বানোয়াট কিংবা মনগড়া নয়। তিনি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বই-পত্র, দেশ-বিদেশের সংবাদ মাধ্যম ও জার্নালে প্রকাশিত তথ্য তুলে ধরেছেন।
তারেক রহমান লন্ডনে ২০ ডিসেম্বর তার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন-“আমার কোন বক্তব্য ভুল প্রমাণিত হলে এবং এর বিপরিতে দলিল প্রমাণসহ প্রকৃত তথ্য উপস্থাপিত হলে আমি আমার বক্তব্য শুধরে নিতে কোন দ্বিধা করবো না।”
দীর্ঘ এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সরকার এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তোলার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে শেখ হাসিনা কোথায় ছিলেন, তিনি কীভাবে নিরাপদে সন্তান জন্ম দিলেন, পাকিস্তানিরা কেন তাকে সহায়তা করেছিল- এমন সব প্রশ্নের অবতারণা করেন তারেক রহমান।
তিনি আরো বলেন- “আমার জীবন যাপন সম্পর্কে শেখ হাসিনা না জেনে নানা রকম মন্তব্য করে থাকেন। তিনি সবসময়ই বেফাঁস মন্তব্য করেন। আমার সম্পর্কে  তার সাম্প্রতিক মন্তব্য কোন সুস্থতার পরিচয় বহন করে না।”
তারেক রহমান বলেন, “আমার দলের নেতা-কর্মীরা যদি বিদেশে শেখ হাসিনার সন্তানদের অনৈতিক জীবনাচার এবং অপকর্মের তথ্য প্রমাণ হাজির করে এবং তার ব্যবহূত শব্দ-ভাষা তার সন্তানদের উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করে তাহলে শেখ হাসিনার কাছে তা কেমন লাগবে?”
তিনি আরো বলেন, বিএনপি দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। কিন্তু কখনোই প্রতিহিংসার রাজনীতিতে লিপ্ত হয়নি। মিথ্যাচার কিংবা মনগড়া ইতিহাসও রচনা করেনি। দেশের জনগণ এসবের সাক্ষী আছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগই ইতিহাস পাল্টে দেয়ার চেষ্টা করেছে। তারা আদালতকে ব্যবহার করে জনগণের ওপর ইতিহাস চাপিয়ে দিয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী লীগকেই মিথ্যাচার, অপ-প্রচার ও প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। কেননা তারাই একাজগুলো শুরু থেকে করে আসছে এবং এখনো করছে।
তিনি বলেন, “আমার মা বেগম খালেদা জিয়া, যিনি বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তিনি তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। তার সম্পর্কেও অশোভনীয় মন্তব্য করেন।”
তথ্য-প্রমাণ ও যুক্তিসহ উপস্থাপিত সবকিছুই আওয়ামী লীগের কাছে অপপ্রচার মনে হয় উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইতিহাসকে আপন গতিতে চলতে দিন। নিজের স্বার্থে ইতিহাসকে বাধাগ্রস্থ করবেন না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, রাজনীতি হওয়া উচিত্ দেশ ও জনগণের উন্নয়নে। কিন্তু শেখ হাসিনা সেটি না করে বরাবরই ব্যক্তিগত রেষারেষি ও প্রতিহিংসায় পরিণত করেন।
এতে আরো বলা হয়, পাঠ্যপুস্তক থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং স্বাধীনতার অন্যতম পথিকৃত মাওলানা ভাসানীর নাম বাদ দেয়া হয়েছে। এমনটা প্রতিহিংসার কারণেই করা হয়েছে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো সিটিতে একটি সড়কের নাম করণ করা হয়েছে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’। শেখ হাসিনা প্রতিহিংসার কারণে মেনে নিতে না পেরে  রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে ব্যবহার করে তা বাতিলের চেষ্টা করছেন।