২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি এবং ইরানের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের মুক্তির বিষয়ে আলোচনা করতে সোমবার প্রথমবারের মতো ইরান সফরে গিয়েছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারেমি হান্ট। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনসহ ২০১৫ সালে বিশ্বের ক্ষমতাধর পাঁচটি দেশ নিয়ে ইরানের সঙ্গে এ পরমাণু চুক্তি করেছিল। পরে গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে এ চুক্তি বাতিল করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। সম্প্রতি পুনরায় ইরানের তেল, ব্যাংকিং ও পরিবহন খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কয়েকদিন পর গত সপ্তাহে জাতিসংঘ পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর সঙ্গে করা তাদের পারমাণবিক চুক্তির বিভিন্ন শর্ত মেনে চলছে। যুক্তরাষ্ট্র এ আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাটকীয়ভাবে ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধি করেছে। এ ছাড়া একতরফা ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক দফা অবরোধ আরোপ করে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফের সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারেমি হান্ট। এ সময় পারমাণবিক সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞায় ইউরোপীয় প্রচেষ্টার বিষয়ে আলোচনা হবে জানা যায়। এমনকি এছাড়া সিরিয়া ও ইয়েমেন সংঘাতে ইরানের ভূমিকা এবং বন্দি থাকা যুক্তরাজ্যে ও ইরানের দ্বৈত নাগরিকদের চলমান বিভিন্ন মামলার বিষয় নিয়েও আলোচনার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ইরান পারমাণবিক চুক্তি রক্ষা করে চললে যুক্তরাজ্য এ ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।
