রাজধানী ও গাজীপুরে পৃথক ঘটনায় ট্রেনের ধাক্কায় এবং কাটা পড়ে পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার দুপুর থেকে গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের কারোই পরিচয় পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ময়না তদন্তের জন্য লাশগুলো গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি আবদুল মজিদ বলেন, শীতকাল হওয়ায় কানঢাকা টুপি ও মাফলার পড়ে চলাফেরা করায় ট্রেনের শব্দ শুনতে পায় না অনেকে। এর পাশাপাশি হেডফোন দিয়ে গান শুনতে শুনতে বা কথা বলতে বলতে পথ চলতে গিয়েও এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।
জিআরপি ও ঢামেক মর্গ সূত্র জানায়, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খিলক্ষেতের জোয়ারসাহারা এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন অজ্ঞাত এক যুবক। আশপাশের লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিত্সকরা তাকে পরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করেন। তার বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। তার মাথা ও গলায় মাফলার প্যাঁচানো ছিল।
এর আগে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দয়াগঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন রেললাইন থেকে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে ঢাকা জিআরপি থানার সদস্যরা। এএসআই কুদ্দুস ফকির জানান, গতকাল ভোরে বা রবিবার রাতের কোনো এক সময়ে ট্রেনে কাটা পড়ে ঐ তরুণীর মৃত্যু হয়। তার বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। পরনে ছিল লাল সালোয়ার-কামিজ ও জিন্সের প্যান্ট। তিনি আরো জানান, রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মগবাজারের পেয়ারাবাগ সংলগ্ন রেললাইন থেকে আরেক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত এই তরুণীর পরনে শুধু একটি ওড়না ছিল।
ঢাকা জিআরপি থানার এসআই আলী আকবর জানান, রবিবার রাতে বিমানবন্দর ও ক্যান্টনমেন্ট রেল স্টেশনের মধ্যবর্তী রেললাইনে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক যুবক নিহত হয় । তার বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। পরনে ছিল কমলা, লাল ও সাদা চেকের পায়জামা, লাল-সাদা রঙের পাঞ্জাবি ও মাথায় ছিল কানঢাকা টুপি। রাত দেড়টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
অপর ঘটনায় রবিবার দুপুরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় এক যুবক মারা গেছেন। ঢাকা জিআরপি থানার ওসি জানান, দুপুর ২টার দিকে দুর্ঘটনায় ঐ যুবক আহত হন। পরে চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় তার মাথা ফেটে যায় ও দুই হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তার পরনে কালো রঙের প্যান্ট, কোট ও গলায় মাফলার ছিল।
