দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে ঘিরে আন্দোলনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। কর্মসূচি প্রণয়নে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া যে কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন তারা বৈঠক করে খসড়া তৈরি করেন। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, দলের যুগ্ম-মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু আন্দোলন কর্মসূচি প্রস্তুত করতে বৈঠক করেন। এই কর্মসূচি নিয়ে পরের রাতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন নেতৃবৃন্দ। তারা মূলত ২ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকায় সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করতে চান। ৫ জানুয়ারিতেও আরেকটি মহাসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। সরকার এই সমাবেশের অনুমতি না দিলে টানা হরতাল ডাকার বিকল্প কর্মসূচি প্রণয়ন করে রেখেছেন দলের নীতি-নির্ধারকরা।
এ কর্মসূচি নিয়ে গতকাল সোমবার ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি নেতারা। কর্মসূচি পালন নিয়ে সিদ্ধান্ত হয় যে, রাজধানীর থানায় থানায় আবারো সংগ্রাম কমিটি গঠন করবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। এর আগেও ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করতে খালেদা জিয়া ভোট কেন্দ্রভিত্তিক সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি গঠন করতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। বেশকিছু স্থানে এ কমিটি গঠন হলেও তেমন কাজে আসেনি। তবে এবার এক সপ্তাহের ভেতর এই কমিটি গঠন করে কেন্দ্রে পাঠাতে বলা হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
একজন নেতা জানান, রবিবার রাতে খসড়া কর্মসূচি প্রণয়নকারী সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, রাজপথে আমি থাকবো সামনে। আমাকে আটকে রাখলে আন্দোলন জোরদার করতে হবে। কর্মসূচি চলবে প্রয়োজনে বিরামহীনভাবে। ঢাকার সঙ্গে গোটা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা নিতে হবে।
কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন নেতা জানান, ৫ জানুয়ারি ঢাকায় মহাসমাবেশ করে সেখান থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সন আন্দোলন কর্মসূচি দেবেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। তাই বিএনপিকে ওইদিন সমাবেশ করার অনুমতি নাও দেয়া হতে পারে। সে জন্য ২ জানুয়ারি ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ করা হবে। দু’-চার দিনের মধ্যে সোহরাওয়ার্দী বা পল্টনে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে চিঠিও দেয়া হবে। তবে সমাবেশের অনুমতি না মিললে টানা ৪৮ ঘণ্টা বা ৭২ ঘন্টা হরতালের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের কর্মসূচি শুরু হবে।
বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা জানান, ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরে চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জনসভা রয়েছে। এই জনসভায় বেগম জিয়ার কর্মসূচি ঘোষণার পরিকল্পনা আছে। কিন্তু ছাত্রলীগ সমাবেশে বাধা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আর এ কারণে প্রশাসন গাজীপুরে জনসভা করতে নাও দিতে পারে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে কর্মসূচি দেয়া হতে পারে।
