গাইবান্ধায় জুয়া বিরোধী অনশনে আওয়ামী লীগের হামলা

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪, ০১:৪০

গতকাল সোমবার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় জুয়া বন্ধের ডাকা অনশন কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এ হামলায় একজন আহত হয়েছেন। হামলায় আহত ব্যক্তির নাম মজিবুর রহমান (৬০)। তিনি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক। তাঁকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বেলা ১১টায় গোবিন্দগঞ্জ নাগরিক কমিটি শহীদ মিনারে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন কর্মসূচি শুরু করে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা অনশন কর্মসূচিতে হামলা চালান। তাঁরা কর্মসূচির ব্যানার ছিঁড়ে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে নাগরিক কমিটির নেতা-কর্মীরা শহীদ মিনারের পাশে উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অনশন শুরু করেন। সেখানেও দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ধাওয়া করেন। বিকেল চারটার দিকে নাগরিক কমিটি তৃতীয় দফায় শহীদ মিনারের পাশে অনশন শুরু করে। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সেখানে গিয়েও তাঁদের মারধর করেন। এ সময় ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়।
নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মতিন মোল্লা বলেন, ৩ ডিসেম্বর থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিজয় মেলার নামে হাউজি, লটারি ও নানা ধরনের জুয়া খেলা চলছে। এসব বন্ধের দাবিতে ১০ ডিসেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসন এসব বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাই ১৮ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে ওই দিন থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হাউজি ও জুয়া খেলা বন্ধ করা না হলে গতকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
মতিন মোল্লা অভিযোগ করেন, গতকাল শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছিল। কিন্তু গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সাংসদ আবুল কালাম আজাদের উপস্থিতিতে দলীয় নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালান। মুঠোফোনে সাংসদ বলেন, ‘আমি ওই ঘটনার সময় একটি ফুটবল খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ছিলাম। অথচ তথাকথিত নাগরিক কমিটি আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।’