দরিদ্রতম ৫ শতাংশ মানুষের উন্নয়নে নজর সরকারের ------------- পরিকল্পনামন্ত্রী

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৪৮

দেশে দরিদ্রসীমার সবচেয়ে নিচে অবস্থানরত ৫ শতাংশ মানুষের জীবন মান উন্নয়নে জোর দিচ্ছে সরকার। অতি দরিদ্রদের জন্য চলমান বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পাশাপাশি নতুন কর্মসূচিও নেওয়া হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের সাহায্যে তাদের চিহ্নিত করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নতির জন্য বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। তবে বিদেশি বিনিয়োগ যে কোনো মূল্যেই হতে হবে এমন নয় বলেই মনে করেন তিনি।

মঙ্গলবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নিজ দফতরে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের বাংলাদেশে আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পোর নেতৃত্বে ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ, এফএও, ডব্লিউএইচও, আইএলওসহ বিভিন্ন সংস্থার ঢাকা অফিসের শীর্ষ ব্যক্তিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ আগ্রহ দেশের ভেতর থেকে উঠে আসবে, প্রতিটি গ্রামে, ছোট দোকানদার, যারা চাষবাষ করছে তারাও এতে অংশ নেবে। তবে কেউ বন্ধুর হাত বাড়িয়ে দিলে বা বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে এলে তা ভালো।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেছে। এ দেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে তারা খুশি। তবে কিছু বিষয়ে তাদের প্রশ্ন রয়েছে। যেমন, দেশের প্রবৃদ্ধি অনুপাতে যথেষ্ট কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারছে কি না? শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় যথেষ্ট কি না? আবার এসব ব্যয় মানসম্মত কিনা? সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগের প্রাপ্তি/রিটার্ন আশানুরূপ কিনা? আবার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের গতি নিয়েও তাদের কিছুটা আপত্তি রয়েছে। প্রকল্পের গতি বাড়ানো, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস করা এ বিষয়ে তারা সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এম এ মান্নান বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন গতি বাড়াতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। এটা কমানোর জন্য কাজ করছি। গত ১০ বছরে ভালো অর্জন করেছি। সরকারের কৌশল পরিবর্তন করবো না, চলমান কৌশলে ভালো সফলতা এসেছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার পাওয়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বিভিন্ন বিষয়ে সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত নিশ্চিত করার বিষয় উঠে এসেছে। তাছাড়া অষ্টম সপ্ত-পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের রূপরেখা নিয়েও কথা হয়েছে। বাংলাদেশের চলমান প্রবৃদ্ধিকে আরো মানসম্মত ও কর্মসংস্থান উপযোগী প্রবৃদ্ধিতে পরিণত করা, পরিবেশের উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার আরো সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয় উঠে এসেছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে মানসম্মত বিনিয়োগ প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগীরা সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে।