বিভিন্ন স্থানে ঝড় বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫০

দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বজ্রসহ ঝড়বৃষ্টি দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। অনেক স্থানে শিলাবৃষ্টিও হয়েছে। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানোখবর।

 খুলনা:বৃষ্টির পানিতে থই থই করছে খুলনা মহানগরীর পথঘাট। মঙ্গলবার সকাল ৯টার পর থেকে শুরু হওয়া বজ্রসহ ঝড়-বৃষ্টি দুপুর সাড়ে ৩টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। অনেক স্থানে শিলাবৃষ্টিও হয়েছে।

নগরীর বাসিন্দা ওয়েজুল হক বলেন, সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। নগরীর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে ছোট-বড় গর্তে পানি জমে চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে সাধারণ মানুষের। মশার উত্পাতও বেড়েছে।

নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া বড় খালপাড় এলাকার বাসিন্দা হাফেজ মো. কামরুজ্জামান জানান, শিলাবৃষ্টিতে তাদের গাছের আমের মুকুল ও জামরুলের কুঁড়ি ঝরে পড়েছে।

কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ পঙ্কজ কান্তি মজুমদার জানান, হালকা শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের উপকার হবে। তবে আমের মুকুলের সামান্য ক্ষতি হলেও হতে পারে।

খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খুলনায় ৩৬ মি.মি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড় আসার প্রভাবে এ ধরনের আগাম বৃষ্টি হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 

মাদারীপুর:মঙ্গলবার দিনভর বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সড়কে যানবাহন চলাচল কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে যাচ্ছে না। এদিকে প্রচণ্ড ঠান্ডায় শিশু ও বয়স্করা কাবু হয়ে পড়ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জিএমএ গফুর জানান, এ মুহূর্তে ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে কিছু কিছু ফসলের বিশেষ করে আলুর ক্ষতির সম্ভাবনা থাকবে।

বরিশাল:বরিশালে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দুই দিনের অব্যাহত গুড়ি গুড়ি, কখনও বজ্র আবার বজ্রসহ বৃষ্টিতে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে কালো মেঘে ঢেকে যায় বরিশালের আকাশ।

বরিশাল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ভোররাত থেকে এই মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নদী বন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মৌসুমী কালবৈশাখীর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হয় বলে জানানো হয়েছে।

মাগুরা:মাগুরায় বৃষ্টিতে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। মঙ্গলবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত মাগুরায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়। বৃষ্টিতে আমের মুকুলের বিশেষ উপকার হলেও পেঁয়াজের ক্ষতি হয়েছে।

থৈপাড়া গ্রামের পিয়াজ চাষী হিমাংশু কুমার বিশ্বাস জানান, পেঁয়াজ তোলার সময় বৃষ্টি হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হবে। এদিকে বৃষ্টির সময় দীর্ঘ সময় মাগুরায় বিদ্যুত্ ছিল না।