হাত দিলেই বেরিয়ে আসছে টাকার বান্ডিল। খাটের নীচে গোপন বক্সে টাকা। ঘরের দেয়ালের বক্সে টাকা। টাকা রাখা হয়েছে বইয়ের ভেতর। টিনের বাক্সে ভরে রাখা হয়েছে স্বর্ণের বার। এরকম একটি ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর পুরানা পল্টনের ২৯/১ নম্বর ‘ঠিকানা’ অ্যাপার্টমেন্টের ৬ষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে। এক মিষ্টি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর ফ্ল্যাটে গোয়েন্দা ও শুল্ক বিভাগ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ও ৫শ’২৮ টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে।
বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে ঐ ফ্ল্যাটে অভিযান চালানোর পর সন্ধ্যার দিকে ঐ ব্যক্তির মালিকাধীন আরেকটি ফ্ল্যাটেও টাকা ও স্বর্ণের সন্ধান পায়।
IMG0
গোয়েন্দা ও শুল্ক বিভাগ জানিয়েছে, উদ্ধার করা টাকার মধ্যে বেশ কিছু বিদেশী মুদ্রাও আছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা ঐ ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়েছে। টাকা ও স্বর্ণের বারগুলো বৈধ না অবৈধ এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোন তথ্য পায়নি। তবে ফ্ল্যাট মালিক মোহাম্মদ আলী গোয়েন্দা ও শুল্ক বিভাগের কাছে দাবি করেছেন তার টাকা ও স্বর্ণের বার বৈধ। ধানমন্ডিতে আলী সুইটস নামে তার একটি মিষ্টির দোকান রয়েছে।
গোয়েন্দা ও শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুরানা পল্টনের ২৯/১ নম্বর ১২ তলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় অভিযান চালানো হয়। উদ্ধারকৃত জিনিসগুলোর মধ্যে চার বস্তায় দেশি-বিদেশি মুদ্রা। মুদ্রাগুলোর মধ্যে প্রায় বেশিরভাগ টাকা। আনুমানিক সাড়ে ৪ কোটি টাকা হতে পারে। ঐ বস্তাগুলোতে ১০ লাখ সৌদি রিয়াল রয়েছে। দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি ৫২৮ টি স্বর্ণের বার পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে একটি সুটকেস থেকে ৭০ টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়।
IMG1
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাহফুজুর রহমান জানান, পুরানা পল্টনের ২৯/১, ভবনের ৬ষ্ঠ ও ১১ তলায় দুইটি ফ্ল্যাটের মালিক আলী সুইটসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলী। ৬ষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে দেয়ালে ফলস আলমারির ভিতরে ৭০ পিস করে স্বর্ণের বার সাজানো ছিল। স্বর্ণের বারগুলো বিভিন্ন সুটকেসে ভরা ছিল। কিছু স্বর্ণের বার খাটের নীচে সুটকেসে ভরিয়ে লুকানো ছিল। টাকাগুলো কাপড় দিয়ে মোড়ানো ছিল। ১১ তলার ফ্ল্যাট থেকে বেশ কিছু টাকা ও স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো জানান, মোহাম্মদ আলী মূলত একজন স্বর্ণ চোরাকারবারি ও হন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গত ১০ ডিসেম্বর বিমানবন্দরের কার্গো এলাকার দুইটি কার্টন থেকে ৪৩ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার হয়। ঐ কার্টনের সূত্র ধরে তদন্তের পর মোহাম্মদ আলীর নাম পাওয়া যায়। এছাড়া বিমানবন্দরে স্বর্ণের চোরাচালানের দায়ে গ্রেফতার বিমানের কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদ আলীর নাম জানায়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ঐ ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়।
তিনি সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন স্বর্ণের ঐ বারগুলো তাকে রাখতে দিয়েছেন। রাত ৯ টার দিকে এই অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। শুল্ক ও গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিপুল পরিমান টাকা এখনও গণনা করা সম্ভব হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে সেখানে সাড়ে ৪ কোটি টাকা রয়েছে।
