আসামে যে কোনো সময় জঙ্গিবিরোধী যৌথ অভিযান

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৪, ০০:৩০

আসামের চারটি জেলায় গত তিন দিনে বোড়ো জঙ্গিদের হামলায় ৭৮ জন নিহত হওয়ার পর সোনিতপুর ও কোকড়াঝাড় সফরে গেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। বোড়ো জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেছেন, এই ধরনের হামলা জঙ্গিবাদ। এই জঙ্গিদের সাথে কোন আলোচনা হতে পারে না। জঙ্গি নির্মূলে যে কোন সময় যৌথ অভিযান শুরু করা হবে। যৌথ অভিযানে পুলিশ, আধা-সামরিক বাহিনী এবং সেনাবাহিনী মাঠে নামবে। বোড়ো জঙ্গিদের (এনডিএফবি) হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে তথ্য থাকার পরও সময় মতো ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের প্রতিরোধ করতে না পারার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সোনিতপুর এবং কোকড়াঝাড় পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। খবর এনডিটিভির।

মঙ্গলবারের হামলার ধারাবাহিকতায় বুধবার উদলগুরি জেলায় হামলা করে বোড়ো জঙ্গিরা। গত তিন দিনের হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৮ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২১ জন নারী এবং ১৮টি শিশু রয়েছে। হামলার পর উত্তর আসামের সোনিতপুর, চিরাং, কোকড়াঝাড় এবং উদলগুরি জেলায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বোড়ো এলাকায় প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হলে তিন জন নিহত হয়। সোনিতপুরে আক্রান্ত আদিবাসীরা বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশের গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছে। পুলিশের দাবি, জরুরি অবস্থা থাকা সত্বেও তারা তীর-ধনুক নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করে।
পৃথক রাজ্যের দাবিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বোড়ো জঙ্গিরা তাণ্ডব শুরু করে। দুই জেলায় চারটি হামলায় মারা যায় ৬২ জন। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, আসাম সরকারের অনুরোধে সেখানে আধা-সামরিক বাহিনীর ৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ আরো বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন।
দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, গত তিন দিনে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ তাদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। গত তিন দশকে আসামে বিভিন্ন সময়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এদের বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ।
রাজ্যের শীর্ষ আমলা  চড়ছেন হাতির পিঠে  

বোড়ো জঙ্গিদের হামলায় আসামে ৭৬ জন নিহতের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে যখন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তখন পরিবারের সাথে ছুটি কাটাতে ব্যস্ত রাজ্যের শীর্ষ আমলা। ঘটনার পরই পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের লোকজন ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে গেলেও তাদের সাথে ছিলেন না রাজ্যের চিফ সেক্রেটারি জিতেশ খোশলা। তিনি পরিবারের সাথে ছুটি কাটাতে গিয়ে চড়েছেন হাতির পিঠেও। আর তাতেই চটেছেন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। গণমাধ্যমের কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় গগৈ বলেন, একজন শীর্ষ আমলার জন্য এটা শোভা পায় না। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ছুটি বাতিল করে তার ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া উচিত ছিলো।